ময়মনসিংহে সড়কজুড়ে ধান-খড় শুকানোয় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬ ৪:৫২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের বিভিন্ন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে ধান ও খড় শুকানোর কারণে দিন দিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সড়কের দুই পাশজুড়ে কৃষকরা ধান ও খড় শুকাতে দেওয়ায় রাস্তার প্রস্থ অনেক জায়গায় কমে যাচ্ছে, ফলে যানবাহন চলাচলে তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি।
ঢাকা–ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ–শেরপুর, ময়মনসিংহ–নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ–কিশোরগঞ্জ মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। কোথাও কোথাও রাস্তার খানাখন্দও খড় দিয়ে ঢেকে রাখা হচ্ছে, ফলে দ্রুতগামী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছে।
ময়মনসিংহ থেকে হালুয়াঘাটগামী এক মোটরসাইকেল চালক আব্দুল হক লিটন বলেন, “সড়কের দুই পাশে খড় শুকানোর কারণে রাস্তার সীমানা বোঝা যায় না। এতে অনেক সময় চাকা পিছলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।”
একই অভিযোগ করেন শেরপুর থেকে ঢাকাগামী বাসচালক দিলীপ রায়। তিনি বলেন, “সড়ক এমনিতেই সংকীর্ণ, তার ওপর খড় শুকানোর কারণে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। কোথায় রাস্তার শেষ তা বোঝা কঠিন হয়ে যায়।”
মাইক্রোবাস চালক আওলাদ হোসেন জানান, অপরিচিত রাস্তায় খড়ের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং ধীরে গাড়ি চালাতে বাধ্য হন তিনি।
তবে কৃষকদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে খোলা জায়গায় ধান ও খড় শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। গৌরীপুরের কৃষক আবদুল সালাম বলেন, “জমি ভেজা থাকায় বাধ্য হয়েই সড়কে খড় শুকাতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে নিরাপদ সড়ক চাই ময়মনসিংহ শাখার সভাপতি আবদুল কাদের চৌধুরী বলেন, সড়ক দখল করে ধান-খড় শুকানো শুধু চালক বা যাত্রী নয়, কৃষকদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান বৃষ্টিতে অনেক জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সড়ক ব্যবহার করছেন। তবে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং দুর্ঘটনা রোধে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, মৌসুমি চ্যালেঞ্জ ও বিকল্প ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা সড়ক ব্যবহার করলেও এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি—যা দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
১২১ বার পড়া হয়েছে