কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে হত্যা, স্বামী পলাতক
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬ ৭:২৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউতকোনা গ্রামে একই পরিবারের তিন শিশুসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মো. শরিফ উদ্দীন। তিনি জানান, নিহত পাঁচজনের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে কাপাসিয়া থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
নিহতরা হলেন— ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। এ ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন হিসেবে ফোরকান মিয়ার নাম উঠে এসেছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে, পরিবারটি রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ফোরকান মিয়ার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বসতঘরের মেঝেতে তিন শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। রসুল মিয়ার মরদেহ ছিল খাটের ওপর এবং শারমিনের মরদেহ জানালার সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।
কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) যুবাইর হোসেন জানান, প্রায় এক বছর ধরে প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ঘরের ভেতরে পাশাপাশি অবস্থায় তিন শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া শারমিন ও তার ভাই রসুলের মরদেহ ঘরের পৃথক স্থানে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্ত ফোরকান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তার পরিবারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। বিশেষ করে স্ত্রী শারমিনের সঙ্গে তার নিয়মিত পারিবারিক বিরোধ ও ঝগড়া-বিবাদ চলত বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরেই ফোরকান স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর পালিয়ে গেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চলছে।
১২৬ বার পড়া হয়েছে