ময়মনসিংহে পরীক্ষার মৌসুম ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে মেলা আয়োজনে নগরজুড়ে বিতর্ক
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬ ৫:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহ নগরে একদিকে চলছে এসএসসি পরীক্ষা, সামনে রয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপ—এমন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাবান্ধব সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বর্তমান সময়ে সারাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব যখন জনজীবনে স্পষ্ট, তখন এমন একটি জনবহুল ও শিক্ষাকেন্দ্রিক এলাকায় মেলা আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এসএসসি পরীক্ষার্থী সিনথিয়া আফরিন শিফা বলেন, পরীক্ষার সময় মেলা আয়োজন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। অনেকেই পড়াশোনা বাদ দিয়ে মেলায় সময় কাটাতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার অন্তরা জানান, মেলা সাধারণত বিনোদনের জায়গা হলেও এই সময়ের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তার মতে, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল পরীক্ষার সময় এ ধরনের আয়োজন এড়িয়ে চলা।
অভিভাবক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেলার কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে এবং এর প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও পড়তে পারে। তিনি পরীক্ষার মৌসুমে সব ধরনের মেলা বন্ধ রাখার দাবি জানান।
সমাজকর্মী ও সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, এমন সংকটকালীন সময়ে মেলার আয়োজন জনজীবনে অস্বস্তি ও যানজট আরও বাড়াবে। তার মতে, প্রশাসনের উচিত ছিল জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে অনুমতি পুনর্বিবেচনা করা।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ মহানগর সুজন সহ-সভাপতি তৌহিদুজ্জামান ছোটন অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক সংকটের সময় মেলার আলোকসজ্জা ও জাঁকজমক সাধারণ মানুষের বিরক্তির কারণ হচ্ছে। তিনি দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
তবে মেলা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বিকাশ রায় জানান, পরীক্ষার সময় মেলার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় ঈদের আগে মেলা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান সংকট ও পরীক্ষার পরিবেশ বিবেচনায় এই মেলার অনুমোদন নৈতিক ও বাস্তবিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের সমর্থনে মেলা চালুর চেষ্টা চলছে।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান জানান, মেলার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি, একই সঙ্গে এর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়ে শিক্ষাজীবন ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে