সর্বশেষ

অপরাধ

ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে তথ্য সন্ত্রাস ও মানহানির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ ৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
আইন পেশার পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একটি অপরাধচক্র পরিচালনা ও তথ্য সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ উঠেছে ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও সমাজের পরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্তরা আইনের আশ্রয় নিলে তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং নিজের ও সহযোগীদের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য সন্ত্রাস চালান।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে নিয়ে সামাজিক ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে মানহানিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে ব্যারিস্টার সারোয়ারের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান। অভিযোগে বলা হয়, আদালতে মামলা করার পরও ব্যারিস্টার সারোয়ার আরও বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করে নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেন।

একটি ফেসবুক পোস্টে ব্যারিস্টার সারোয়ার দাবি করেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক লাখ দুই হাজার একর জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।

তবে পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলা হয়, পুরো ঢাকা শহরের আয়তন এর চেয়ে অনেক কম। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট আয়তন প্রায় ৩০৬.৪ বর্গকিলোমিটার (প্রায় ৭৫,৭০০ একর) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার আয়তন প্রায় ৩৬০ বর্গকিলোমিটার (প্রায় ৮৮,৯০০ একর)। এ প্রেক্ষিতে দাবি করা হয়, উল্লিখিত পরিমাণ জমি দখলের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গত বছরের ২২ নভেম্বর ঢাকার একটি আদালতে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিবাদী দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা, অকথ্য ও মানহানিকর বক্তব্য ও প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এতে বাদী, তার প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারের সদস্যরা দেশে-বিদেশে ব্যবসায়িক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আরও বলা হয়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সামাজিক ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

বসুন্ধরা গ্রুপ ১৯৮৭ সালে আবাসন ব্যবসার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি খাদ্যপণ্য, কাগজ, সিমেন্ট, এলপিজি, শিপিং, স্বর্ণ, সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মামলাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও, ব্যারিস্টার সারোয়ার তার একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন যে বিষয়টি নিয়ে কোনো গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়নি এবং বসুন্ধরার প্রভাবে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে—যা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন অতীতেও বিভিন্ন ঘটনায় বিতর্কিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বলা হয়, তিনি একসময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তার পক্ষে আইনজীবী প্যানেলে ছিলেন।

পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী অবস্থান পরিবর্তন ও একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ তোলার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হয় এবং তিনি ওই প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ান।

সব মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্য, পাল্টা অভিযোগ ও আদালতে মামলা ঘিরে ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

২০৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
অপরাধ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন