মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় নেতার জেল, প্রতিবাদে বরগুনায় সংবাদ সম্মেলন
বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরগুনার আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মিল্টন হাওলাদারকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় আসামি করে জেল হাজতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি ও যান্ত্রিকযান থ্রি-হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ তারিকুল ইসলাম সোহাগ সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে আমতলী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শতাধিক শ্রমিক নেতা ও চালকদের উপস্থিতিতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে মোঃ তারিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর থ্রি-হুইলার ও সিএনজি স্ট্যান্ড উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে রাহাত ফকির দখলে নেয়। এরপর থেকে তিনি থ্রি-হুইলার ও সিএনজি থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে আসছেন। প্রায় দুই বছর ধরে প্রকাশ্যে এই চাঁদাবাজি চললেও প্রতিবাদ করলে চালক ও শ্রমিকদের মারধর ও লাঞ্ছিত করা হতো।
তিনি আরও জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে খুলনা শ্রম অধিদপ্তর থেকে থ্রি-হুইলার ও সিএনজি মালিক সমিতির নিবন্ধন আনা হয়। এতে পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মোঃ মিল্টন হাওলাদারকে সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি করা হয়। এরপর থেকে তারা সরকারি নিয়ম মেনে যানবাহন পরিচালনা করে আসছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হন জালাল উদ্দিন ফকির।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জালাল উদ্দিন ফকির ও তার ছেলে রাহাত ফকির নিয়মিতভাবে থ্রি-হুইলার ও সিএনজি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতেন। গত মঙ্গলবার সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি মিল্টন হাওলাদার বাসা থেকে বের হয়ে স্ট্যান্ডে গেলে তাকে ও সুমনকে ধরে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়। পরে জালাল ফকিরের সহযোগী মোঃ আমিরুল ইসলামকে বাদী করে আমতলী থানায় একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে মিল্টনকে জেল হাজতে পাঠানো হয় বলে দাবি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, রাহাত ফকির একজন ডাকাত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে থ্রি-হুইলার ও সিএনজি থেকে মাসিক ১৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া সড়কে চলাচলের জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়েছে। চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মিল্টন ও সুমনকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জালাল উদ্দিন ফকিরের এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং মিল্টন হাওলাদার ও সুমনের মুক্তির দাবি জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মঞ্জুরুল কবির, নিজাম হাওলাদার, খলিল মীর, টিটু, রুবেল আকন, অসীম মৃধা, নজরুল ইসলামসহ শতাধিক শ্রমিকদল নেতা ও থ্রি-হুইলার-সিএনজি চালকরা।
অন্যদিকে, জালাল উদ্দিন ফকির তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে মিল্টনকে টাকাসহ হাতেনাতে আটক করেছে। তারাই আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি নিজে কোনো মামলা করেননি বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণে নির্দোষ প্রমাণিত হলে কাউকে হয়রানি করা হবে না। তিনি আরও বলেন, সংবাদ সম্মেলন করে যে কেউ নিজেকে নির্দোষ দাবি করার অধিকার রাখে।
১৩৯ বার পড়া হয়েছে