মাহতাবউদ্দিন কলেজের প্রভাষকের বিরুদ্ধে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ ৮:০০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি মাহতাবউদ্দিন কলেজ-এর ভূগোল বিভাগের প্রভাষক সাইফুন্নাহারের বিরুদ্ধে এমপিওভুক্তি ও জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে জাল নিয়োগপত্র, ভুয়া রেজুলেশন, জাল পদত্যাগপত্র ও অনিয়মের মাধ্যমে তিনি ভূগোল বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে এমপিও সুবিধা গ্রহণ এবং পরবর্তীতে জাতীয়করণ হয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাইফুন্নাহার ০৪ ডিসেম্বর ২০০৪ থেকে ১৩ মার্চ ২০১০ পর্যন্ত বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ-এ অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ভূগোল বিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ভূগোল বিষয়ের এমপিওভুক্ত প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কলেজে তার নিয়োগকালীন সময় থেকে অদ্যাবধি ভূগোল বিভাগের কোনো সরকারি অনুমোদন ছিল না।
পরবর্তীতে ১৩ মার্চ ২০১০ তারিখে তিনি সরকারি মাহতাবউদ্দিন কলেজে অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ভূগোল বিষয়ে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এ সময় বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ তাকে অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ভূগোল বিষয়ের অভিজ্ঞতার সনদ ও ছাড়পত্র প্রদান করে।
এদিকে ২২ জুলাই ২০১১ তারিখে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর-এর এক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজে তার ভূগোল বিষয়ের এমপিওভুক্তি অবৈধ ছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ভূগোল বিষয়ের নিবন্ধন ছাড়া তার এমপিওভুক্তির সুযোগ নেই।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই তদন্ত প্রতিবেদনের পর হঠাৎ যশোর থেকে প্রকাশিত “দৈনিক দেশ হিতৈষী” পত্রিকায় সরকারি মাহতাবউদ্দিন কলেজের ভূগোল বিষয়ের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। তবে কলেজের অধ্যক্ষ পরবর্তীতে এক প্রতিবাদপত্রে পত্রিকার সম্পাদককে জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ এমন কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়নি।
তৎকালীন সময়ে কলেজে বিধি মোতাবেক জনাব অখিল চক্রবর্তী ও জনাব শাহীন ইকবাল ভূগোল বিষয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সাইফুন্নাহার যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া আলিম মাদ্রাসা-এর অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ফারুক হোসেনের সহযোগিতায় মোটা অঙ্কের ঘুষের মাধ্যমে ভূগোল বিষয়ের প্রভাষক শাহীন ইকবালের জাল পদত্যাগপত্র তৈরি করেন। একই সঙ্গে দেশ হিতৈষী পত্রিকায় প্রকাশিত কথিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড, জাল রেজুলেশন ও জাল নম্বরপত্র তৈরি করে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি সরকারি মাহতাবউদ্দিন কলেজে ভূগোল বিষয়ে এমপিওভুক্ত হন।
এরপর ২০১৪ সালে রিনা পারভীন ভূগোল বিষয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। অভিযোগে বলা হয়, কলেজের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মণ্ডলের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং রিনা পারভীনের প্রভাবের কারণে সাইফুন্নাহারের এমপিও ভূগোল বিষয় থেকে অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ভূগোলে স্থানান্তর করা হয়। এর ফলে ভূগোল বিভাগের পদ শূন্য দেখিয়ে সেখানে রিনা পারভীনকে এমপিওভুক্ত করা হয়।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে এসব অনিয়মের বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এলেও সাইফুন্নাহার কীভাবে ০৮ আগস্ট ২০১৮ তারিখে পুনরায় অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক ভূগোল থেকে ভূগোল বিষয়ে জাতীয়করণ হলেন, তা বোধগম্য নয়।
বর্তমানে সরকারি মাহতাবউদ্দিন কলেজে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে সাইফুন্নাহারসহ তিনজন শিক্ষক জাতীয়করণকৃত শিক্ষক হিসেবে সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন বলে জানা গেছে।
১২৯ বার পড়া হয়েছে