মে দিবস ও শ্রমিক অধিকার
বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:২৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
১ মে "মহান মে দিবস"। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী ঘটা করে পালন করা হয় মে দিবস। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন দিবসটি পালনের জন্য ইতোমধ্যে নানান কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।
মে দিবসে শ্রমিক সমাজ লালপতাকা হাতে নিয়ে এবং লালফিতা মাথায় বেঁধে মুখরিত হবে। মালিকপক্ষ সহ অন্যান্য গোষ্ঠী আয়োজন করবে আলোচনা, টক শো'র। আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এদিন আমরা সবাই শ্রমিক অন্তপ্রাণ হয়ে পড়ব। আওড়াবো কথার ফুলছড়ি শ্রমিকের অধিকার নিয়ে। কিন্তু পরের দিন থেকে যে যার স্বার্থসংশ্লিষ্ট অবস্থানে চলে যাব।
বিশ্বের এই যে আধুনিক রুপ তা কাদের ঘামের ফসল? সন্দেহাতীতভাবে উত্তর একটাই, তা হলো শ্রমিকের ঘামের ফসল। কিন্তু শ্রমিকের অবস্থান আজ কোথায়? অবস্থান সেখানেই যেখানে অতীতেও ছিল। আজও শ্রমিক নির্যাতিত-নিষ্পেষিত। আজও শ্রমিক দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত। পাচ্ছে না সে তার ন্যূনতম বেঁচে থাকার মৌলিক উপকরণগুলো। যা তার প্রাপ্য। পাচ্ছে না তার জীবনের নিরাপত্তা। তাকে মরতে হয় দালানের চাপায় পড়ে, না হয় আগুনে পুড়ে। স্বাভাবিক মৃত্যুটাও যেন কার কাছে অধরা। বেঁচে থাকার তাগিদে 'শ্রমিক' নাম ধারণ করে আর বাড়ী ফিরে দালান চাপা ও আগুনে পোড়া লাশ হয়ে। ক'দিন হইচই হয়। আশ্বাস আর আশ্বাস, প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুতি আসতে থাকে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। তারপর? তারপর সবাই নিশ্চুপ। আমরা সবাই ভুলে যাই। ভুলে যায় না শুধু স্বজনহারা মানুষগুলো।
বাস্তব বিবর্জিত নিম্নতম মজুরীর কারণে শ্রমিকদের দিনাতিপাত করতে হয় কায়ক্লেশে। বেঁচে থাকার সাধারণ চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারে না। তাই করতে হয় মানবেতর জীবনযাপন। যেখানে খাবার ও মাথা গোছার ঠাঁইয়ের জন্য প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয় সেখানে সন্তান-সন্ততিদের লেখাপড়া করানোর আশা করতে পারে না। ফলে শ্রমিকের সন্তানটি শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে বেড়ে উঠে আগামীর শ্রমিক হয়ে। বংশপরম্পরায় তৈরি হতে থাকে শ্রমিক।
শ্রমিকের অধিকার দেখভাল করার জন্য রয়েছে আইএলও ( International Labour Organization) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। রয়েছে দেশীবিদেশী এনজিও, রয়েছে দেশী-বিদেশী শ্রমিক সংগঠন। সর্বোপরি রয়েছে শ্রম আদালতসহ সরকারি দপ্তর সমুহ। শ্রমিকদের মাথার উপরে এত অভিভাবক থাকলেও কেন তাদের জীবনধারা বিশ্বব্যাপী অতীতেও যেমন ছিল আজও তেমনি রয়েছে? এর উত্তর কি? আসলে দেখার অর্থে দেখার কেউ নেই। অধিকার কেউ কাউকে দেয় না। কেউ তা ঘরে এসে দিয়ে যায় না। এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য।
কোন শ্রেণীকে তার অধিকার নিজেদেরকেই অর্জন করতে হয়। এটা দান খয়রাতের বিষয় নয়। অতীতেও শ্রমিকের অধিকার বিষয়টি যে তিমিরে ছিল আজও সে তিমিরেই রয়েছে। তাহলে অধিকার আদায়ের পথ? পথ একটাই তা হলো শ্রমিকদেরকে সচেতন হতে হবে, সংগঠিত হতে হবে। সমস্বরে আওয়াজ তুলতে হবে। 'মে দিবস' এর দিনেই শুধু নয় সারাবছর। তা সে যে দেশেরই শ্রমিক হোক। কারণ, সবদেশের শ্রমিকের সমস্যা ঐ একটাই, তা হলো অধিকার পাওয়া না পাওয়া। বিষয়টি যে শ্রেণীগত।
লেখক : সমাজকর্মী, সভাপতি, সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ, ময়মনসিংহ।
১২৪ বার পড়া হয়েছে