সর্বশেষ

জাতীয়

বুদ্ধপূর্ণিমায় প্রধানমন্ত্রীর ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা 'ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার'

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:১০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং বুদ্ধমূর্তির প্রতিকৃতি তুলে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না এবং অতীতেও তা করেনি। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে সরকারের নীতি হলো—‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার’। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে নানা ধর্ম রয়েছে এবং প্রতিটি ধর্মই মানবকল্যাণের কথা বলে। তিনি বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক মহামতি গৌতম বুদ্ধ প্রদত্ত পঞ্চশীল নীতির কথা তুলে ধরেন। এই নীতির মধ্যে রয়েছে—প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকা, চুরি না করা, ব্যভিচার পরিহার, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে দূরে থাকা। এছাড়া প্রেম, অহিংসা ও সর্বজীবে দয়ার শিক্ষাও বৌদ্ধ ধর্মের মূল বার্তা।

এ সময় তারেক রহমান বলেন, পঞ্চশীল নীতিতে যে নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে, তা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলার পাশাপাশি নাগরিকরা নিজ নিজ ধর্মীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করলে একটি মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা সরকারের দায়িত্ব, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি-নীতি ও অধিকার স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় কারো ধর্ম বা বিশ্বাস নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। তাই স্বাধীন বাংলাদেশ সবার—এ কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’কে সরকারের অন্যতম রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই দর্শনই দেশের সব ধর্ম-বর্ণ ও নৃগোষ্ঠীর মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম। তিনি সবাইকে নিজেকে সংখ্যালঘু ভাবতে নিষেধ করে বলেন, রাষ্ট্র সবার এবং আমরা সবাই বাংলাদেশি।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

১১৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন