মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি বিদ্যালয়: আধুনিক শিক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬ ২:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর এলাকায় অবস্থিত মঙ্গল সুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আধুনিক প্রাথমিক শিক্ষার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে গড়ে উঠেছে।
প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত এখানে চলছে তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পাঠদান কার্যক্রম, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা
বিদ্যালয়টিতে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ল্যাপটপভিত্তিক পাঠদান এবং শিক্ষার্থীবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। পাঠদানের সময় ভিডিও, অডিও এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ আলোচনা পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।
শ্রেণিকক্ষগুলোতে জাতীয় ইতিহাস, বায়ান্ন থেকে একাত্তর সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং মীনা-রাজুর কার্টুনচিত্রসহ শিক্ষণীয় চিত্রায়ণ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের শেখাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
শিশুদের জন্য আনন্দময় ও সৃজনশীল পরিবেশ
বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষগুলো শিশুদের জন্য একটি “শিশুতোষ শিক্ষাপার্ক”-এর মতো পরিবেশ তৈরি করেছে। এখানে রয়েছে খেলাধুলার উপকরণ, পশু-পাখির মডেল, দোলনা, স্লিপারসহ নানা শিক্ষামূলক সরঞ্জাম। ফলে শিশুরা খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার সুযোগ পাচ্ছে।
এফএলএন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
বর্তমান সরকারের ভিত্তিমূলক শিখন (FLN) কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাংলা বিষয়ে প্রায় শতভাগ দক্ষতার পর্যায়ে পৌঁছেছে, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত গণিতে প্রায় ৯৫% অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ধারাবাহিক দক্ষতা উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, শিক্ষকরা নিয়মিত মূল্যায়ন, দলগত শিক্ষা ও মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠদান পরিচালনা করছেন।
ক্রীড়া ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্য
শুধু পড়াশোনা নয়, খেলাধুলা ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমেও বিদ্যালয়টি সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
২০২২ সালে শতভাগ বৃত্তি অর্জন,
২০২৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থান অর্জন,
২০২৬ সালে বিভাগীয় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে তৃতীয় স্থান অর্জন,
কাব স্কাউট কার্যক্রমে ১০০-এর বেশি জাতীয় পুরস্কার অর্জন,
শিক্ষক ও প্রশাসনের ভূমিকা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. নাজমুস সাকিব খান কনা জানান, নিয়মিত মূল্যায়ন, অভিভাবক সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৬ জন শিক্ষক এবং ৭৬৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. শাহিদা বেগম বলেন, FLN কার্যক্রমসহ আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রমে বিদ্যালয়টি সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, যা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয়।
আধুনিক প্রযুক্তি, সৃজনশীল পরিবেশ এবং ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ে কলাপাড়ার এই বিদ্যালয়টি দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় একটি সফল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে