রংপুর আদালত চত্বরে আইনজীবী সমিতিতে হামলা-ভাঙচুর, ৪ আইনজীবী আহত
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬ ৪:১৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুর আদালত চত্বরের রংপুর আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং আইনজীবীদের ওপর মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় অন্তত চারজন আইনজীবী আহত হন এবং পরে পুলিশ দুইজন আইনজীবী সহকারীকে আটক করে।
আটককৃতরা হলেন আইনজীবী সহকারী আতিয়ার রহমান এবং তার ছেলে জুবাদুর রহমান জাবেদ। স্থানীয় পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিকেলে রংপুর অ্যাডভোকেট ক্লার্ক সমিতির সদস্য নবায়ন কার্যক্রম নিয়ে মাইকিং চলছিল। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে আইনজীবী সহকারী আতিয়ার ও জাবেদ সমিতির দুই কর্মচারীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আলোচনা চলাকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় আইনজীবী সহকারী আতিয়ার ও তার ছেলে জাবেদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও লাঞ্ছিত করেন।
এরপর আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ ইবনে কামাল এগিয়ে গেলে তার ওপর চেয়ার দিয়ে হামলা চালানো হয় এবং তাকে মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অন্যান্য আইনজীবীরাও হামলার শিকার হন।
পরে উপস্থিত আইনজীবীরা অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় আইনজীবী সমিতির কার্যকরী সদস্য অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে আইনজীবী সমিতির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে এমন সহিংসতা নজিরবিহীন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
আইনজীবী ফাতেমা জান্নাত বলেন, সমিতি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে