জুয়ায় আসক্ত হয়ে সাবলেটের পরীক্ষার্থীকে হত্যা-লুট, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:২৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে ঋণের দায়ে জর্জরিত ছিলেন শামীম ওরফে স্বপন। টাকার জন্য সাবলেট থাকা এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা আক্তারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে ঘরে ঢুকে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় নাহিদাকে গলা কেটে ও মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করে কানের দুল লুট করে নিয়ে যান শামীম।
ঢাকার ধামরাইয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি শামীম ওরফে স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এ সময় হত্যার কাজে ব্যবহৃত শিলপাটা এবং লুট করা কানের দুল উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ।
পুলিশ ও সংবাদ সম্মেলন সূত্রে জানা যায়, নিহত নাহিদা ও অভিযুক্ত শামীম একই ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে ভাড়া থাকতেন। আগে থেকেই নাহিদাকে হত্যার টার্গেট করেছিলেন শামীম। গত বৃহস্পতিবার ধামরাই পৌর শহরের লাকুড়িয়াপাড়া মহল্লার একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে নাহিদার নানি বাসার বাইরে যান। এই সুযোগে শামীম ডিম ভাজার জন্য পেঁয়াজ-রসুনের প্রয়োজন—এমন অজুহাত দিয়ে কৌশলে নাহিদাদের ঘরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকেই তিনি নাহিদার কাছে টাকা দাবি করেন। নাহিদা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শামীম প্রথমে ওড়না দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরেন এবং ধাক্কা দিয়ে ফ্লোরে ফেলে দেন। এরপর নিজের কাছে থাকা কাটার দিয়ে নাহিদার গলা কাটেন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ঘরে থাকা শিলপাটা দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নাহিদার কানে থাকা দুল খুলে নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে ওই দিন রাত ৮টার দিকে পুলিশ ফ্লাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
জানা গেছে, নিহত নাহিদা আক্তার ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলের বাণিজ্য বিভাগ থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তার মা প্রবাসী হওয়ায় তিনি নানির সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে সাবলেটে ভাড়া থাকতেন।
১৭৫ বার পড়া হয়েছে