সর্বশেষ

সারাদেশ

কৈবর্তখালীতে সূর্যমুখীর হলুদ সমারোহ, নতুন পর্যটন আকর্ষণ

আযরাফ ফাতিন নাফিউ, পিরোজপুর
আযরাফ ফাতিন নাফিউ, পিরোজপুর

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের কৈবর্তখালী গ্রাম এখন সূর্যমুখীর উজ্জ্বল হলুদ আভায় ভরে উঠেছে।

একসময় যেখানে ছিল শুধু ধানক্ষেত, সেখানে এখন বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে দুলছে সূর্যমুখী ফুল। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে, অন্যদিকে গ্রামটি ধীরে ধীরে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি স্থানে পরিণত হচ্ছে।

গ্রামটির সূর্যমুখী ক্ষেত দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয়দের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। বিশেষ করে বিকেলের দিকে এই ক্ষেত যেন ছোট্ট এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে এসে ছবি তুলছেন এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পিরোজপুর জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ৯৮৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে দুই থেকে আড়াই টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কম খরচ ও কম শ্রমে লাভজনক হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে। তাদের মতে, সরকারি সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে এ আবাদ আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।

সূর্যমুখী চাষি খোকন হাওলাদার বলেন, তিনি এবার প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী আবাদ করেছেন এবং ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সহায়তা পাওয়ায় চাষে সুবিধা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্য চাষি মোস্তফা হাওলাদার জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন এবং ফলন ভালো হওয়ায় আগামীতে আরও জমিতে চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আরেক কৃষক রফিক উদ্দিন বলেন, সূর্যমুখী শুধু লাভজনক ফসলই নয়, ফুল ফোটার সময় এটি এলাকার সৌন্দর্যও বাড়িয়ে দেয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসে, যা কৃষকদের জন্যও আনন্দের বিষয়।

নেছারাবাদ উপজেলা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মুন্নি আক্তার বলেন, পরিবারের সঙ্গে সূর্যমুখী ক্ষেত দেখতে এসে তার খুব ভালো লেগেছে এবং অনেক ছবি তুলেছেন।

পিরোজপুর শহর থেকে আসা আরমান ইসলাম বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে সূর্যমুখী ক্ষেত দেখতে এসে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন।

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, কৃষকদের বীজ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর জেলায় সূর্যমুখীর আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, কৈবর্তখালী গ্রামের সূর্যমুখী ক্ষেত এখন শুধু কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়, বরং এটি ধীরে ধীরে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে।

২০৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন