সর্বশেষ

জাতীয়

এস আলম গ্রুপের সমঝোতা প্রসঙ্গ নাকচ, অর্থ পুনরুদ্ধারে চলমান অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৪৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সরকারের কোনো ধরনের সমঝোতার সুযোগ নেই। বিএনপির রাজনৈতিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কারও সঙ্গে সমঝোতার নীতি নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

যারা ব্যাংক থেকে অর্থ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে এবং অর্থ পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে এনসিপির সদস্য (কুমিল্লা-৪) হাসনাত আবদুল্লাহ এস আলম গ্রুপ ও ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন করেন। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, অর্থ পাচারের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।


অর্থমন্ত্রী জানান, এস আলম ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা করা হয়েছে। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস, জার্সি ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে এমএলএআর পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও আইনগত সহায়তা চাওয়া হয়েছে। চারটি আন্তর্জাতিক আইন সংস্থা সম্পদ অনুসন্ধানে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ অর্থ পাচার একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট দেশের সহযোগিতা, আদালতের রায় এবং প্রমাণ সাপেক্ষে অর্থ উদ্ধার সম্ভব হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৬৬২টি ব্যাংক হিসাবের ২৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বিও হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ২৭টি মামলার মধ্যে ৩টির চার্জশিট দাখিল হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্থায়ী সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, শেয়ার ও বিদেশে থাকা সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিভিন্ন দেশে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং চারটি দেশে এমএলএআর পাঠানো হয়েছে।


অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও ঋণ খেলাপি রোধে ব্যাংক কোম্পানি আইন ও অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের কাজ চলছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমাতে কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার কাজ চলছে। গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় অর্থ ছাড় করা হচ্ছে।


অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮ হাজার ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।


সংসদে অনলাইন ব্যাংকিং ও লেনদেন ফি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৪৬টি ব্যাংক বর্তমানে অনলাইন সেবা দিচ্ছে এবং ফি নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার পরিকল্পনা রয়েছে।


অর্থমন্ত্রী জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থায়ন চুক্তি হয়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সংসদে তিনি আরও বলেন, অর্থ পাচার রোধ, ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

১০২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন