কন্যা হওয়ায় স্ত্রী-নবজাতককে ফেলে পালাল স্বামী, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামে কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর অসুস্থ স্ত্রী ও নবজাতককে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নবজাতক কন্যা ও তার অসহায় মায়ের খোঁজখবর নেন। শুধু দেখাশোনা নয়, জেলার অভিভাবক হিসেবে তিনি নবজাতকের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।
জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল প্রসববেদনা শুরু হলে গর্ভবতী শাহনাজ বেগম শেলী নিজেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা প্রথমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করলেও জটিলতার কারণে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
তবে সন্তান জন্মের পরপরই স্বামী বেলাল আহমেদ স্ত্রী ও নবজাতককে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। এতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন অসুস্থ মা ও নবজাতক শিশু।
পরবর্তীতে ২০ এপ্রিল নবজাতকের শরীরে জন্ডিস ধরা পড়ে। দ্রুত তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-তে ভর্তি করা হয় এবং ফোটোথেরাপি দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে শিশুটি সুস্থ আছে।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নবজাতকের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানান।
মঙ্গলবার তিনি হাসপাতালে গিয়ে মা ও শিশুর পাশে দাঁড়ান। এ সময় তিনি নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি নবজাতকের জন্য শিশু খাদ্য, পোশাক, ডায়াপার, বিছানাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং মায়ের জন্য পোশাক ও এক মাসের খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন।
তিনি বলেন, “বাচ্চাটি এখন সুস্থ আছে। খুব শিগগিরই তাকে মায়ের কাছে দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ও শিশুর সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেউ যেন নিজের পরিবারকে এভাবে ফেলে না যায়—এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
নবজাতকের মা শাহনাজ বেগম বলেন, তার স্বামী আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছিলেন কন্যা সন্তান হলে তিনি গ্রহণ করবেন না। সন্তান জন্মের পর থেকেই তিনি আর কোনো খোঁজ নেননি। তিনি নিজেই কষ্ট করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানান।
বর্তমানে মা ও শিশু উভয়ই সুস্থ আছেন এবং জেলা প্রশাসকের সহায়তায় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
১২৪ বার পড়া হয়েছে