সর্বশেষ

সারাদেশ

সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ৭০–৮০ শতাংশ কমানোর আশা মেয়রের

হাসান ফেরদৌস, চট্টগ্রাম
হাসান ফেরদৌস, চট্টগ্রাম

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা চলতি বছরে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার টাইগারপাসে অবস্থিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে বিভিন্ন সেবা সংস্থার সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আশার কথা জানান।

মেয়র বলেন, গত বছর খাল ও নালা পরিষ্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে নগরীতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছিল। চলতি বছর সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে এই হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, নগরীতে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার ড্রেন এবং অসংখ্য খাল রয়েছে। এসব ড্রেন ও খাল নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে চসিক। বর্তমানে চসিকসহ মোট চারটি সংস্থা জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সময়মতো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করা গেলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম বলেন, সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পন্ন করেছে। অবশিষ্ট ৫ শতাংশ কাজ দ্রুত শেষ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মেয়রের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলতি বছর জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্য হারে—প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত—হ্রাস পাবে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল খননের কাজের মধ্যে অধিকাংশই সম্পন্ন হয়েছে। তবে হিজড়া খাল এবং জামালখান খালের কিছু অংশের কাজ এখনো বাকি রয়েছে, যা দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরীতে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ হকারদের যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা সমস্যাকে চিহ্নিত করেন মেয়র। তিনি বলেন, নালা ও খাল পরিষ্কার করার পরও হকারদের কারণে সেগুলো আবার দ্রুত ময়লায় ভরে যাচ্ছে। নিউ মার্কেট, স্টেশন রোড এবং চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় হকাররা ফলের অবশিষ্টাংশ ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি রাস্তায় বা নালায় ফেলে দিচ্ছে, যা জলাবদ্ধতা সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একইসঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের রাস্তার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। কাউকে হাতেনাতে ময়লা ফেলতে দেখা গেলে তাৎক্ষণিক জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন মেয়র।

এছাড়া রাস্তার পাশে বালি, ইট ও নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দীন আহমেদ প্রস্তাব দেন যে, পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পারে।

পাহাড় ক্ষয় ও মাটি ধসে খাল ভরাট হয়ে যাওয়াকে জলাবদ্ধতার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন মেয়র। তিনি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে প্রকৌশলী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে নজরদারি জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্ল্যাব ও ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, কোনো নাগরিক যেন দুর্ঘটনার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বড় নালা ও খালের পাশে যেখানে সুরক্ষা দেয়াল নেই, সেখানে অস্থায়ীভাবে হলেও নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণের নির্দেশ দেন তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, দক্ষিণ হালিশহর, বন্দরটিলা ও নয়ারহাট এলাকায় স্লুইস গেট নির্মাণ দ্রুত শেষ করতে হবে। বর্ষার আগে এসব কাজ সম্পন্ন না হলে বিকল্প পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে জনগণ দুর্ভোগে না পড়ে।

পলিথিন দূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দিয়ে মেয়র বলেন, শুধু পলিথিন নিষিদ্ধ করলেই হবে না; এর বাস্তবসম্মত ও সহজলভ্য বিকল্প নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাজারে বিকল্প পণ্য না থাকলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পাটের ব্যাগসহ পরিবেশবান্ধব পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পলিথিনের কারণে খাল, নালা ও ড্রেন দ্রুত ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করছে। ফলে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

মেয়র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দেন, বর্ষার আগেই প্রতিটি এলাকায় ভাঙা বা অনুপস্থিত স্ল্যাব ও ম্যানহোলের ঢাকনার তালিকা তৈরি করে দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। একইসঙ্গে বড় নালা ও খালের পাশে যেখানে সুরক্ষা দেয়াল নেই, সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বাঁশ বা অন্যান্য উপকরণ দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করতে হবে।

তিনি জানান, নিজেও প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিদর্শন চালিয়ে যাওয়া ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার নির্দেশ দেন।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা ও খাল থেকে পিডিবি, কর্ণফুলী গ্যাস, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির স্থাপিত পিলার, দেয়াল ও পাইপ অপসারণ জরুরি। তিনি ওয়াসার প্রতিনিধিকে অনুরোধ করেন, নতুন নির্মিত রাস্তা না কেটে চসিকের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহসিনুল হক, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, পিডিবি’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একেএম মামুনুল বাশরি, বন্দর কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা। এছাড়া চসিকের স্পেশাল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, বারইপাড়া খাল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদসহ সংশ্লিষ্টরা সভায় বক্তব্য দেন।

১২২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন