শ্যামনগরে পারিবারিক বিরোধে স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৩৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩২) কে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ইসমাইল গাজী বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল গাজী রাতের খাবার খেয়ে নিজ বাড়িতে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা খাতুনের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় নাজমা খাতুন ধারালো বটি দিয়ে তার স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। ইসমাইল গাজীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকির হোসেন জানান, ইসমাইল গাজীর গোপনাঙ্গ সম্পূর্ণভাবে ছিন্ন হয়ে গেছে। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নাজমা খাতুন কর্তিত গোপনাঙ্গটি সঙ্গে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে উপস্থিত হন। সেখানে ইসমাইল গাজীর ভাইসহ প্রতিবেশী ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। পরে স্থানীয়রা নাজমা খাতুনকে হাসপাতালে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম জানান, ইসমাইল গাজী একাধিক বিয়ে করেছেন। তার প্রথম স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কৈখালী এলাকায় বসবাস করেন। তিন দিন আগে বড় স্ত্রী সিরাজপুরের বাড়িতে আসাকে কেন্দ্র করে ছোট স্ত্রী নাজমা খাতুনের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নাজমা খাতুনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, নাজমা খাতুন এর আগেও ২০১৭ সালে শ্যামনগর পৌরসভার নকিপুর বাজারের এক ব্যবসায়ীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছিলেন।
১২১ বার পড়া হয়েছে