টাঙ্গাইলে জেলা পর্যায়ে বিদেশফেরতদের ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগের তাগিদ
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিদেশফেরত অভিবাসীদের যথাযথ পুনঃএকত্রীকরণ সেবা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. সেলিম মিঞা।
তিনি বলেন, “বিদেশফেরত অভিবাসীরাও আমাদের দেশের সম্পদ, কারণ তাদের রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে। এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে বিদেশফেরতদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করে সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখলে সবাই জানতে পারবে কতজন মানুষ বিদেশ থেকে ফেরত এসেছেন এবং তারা কী কী কাজে নিয়োজিত ছিলেন।”
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) টাঙ্গাইলে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ‘রিইন্টিগ্রেশন অব মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটি ‘প্রত্যাগত কর্মীদের জন্য রেফারেল পথনির্দেশনা ও সেবা সংযোগ’ শীর্ষক এবং টাঙ্গাইলের স্থানীয় একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সকল অংশীজনকে তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সেবাসমূহ একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের আওতায় এনে জনগণকে জানাতে হবে।
কর্মশালায় জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, নিরাপদ অভিবাসন ও পুনঃএকত্রীকরণ- উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জয় সাহা বিদেশফেরতদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় ঋণ সহায়তার আশ্বাস দেন এবং ব্র্যাকের এই উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে পরিচালনার অনুরোধ জানান।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল আলম বিদেশফেরত অভিবাসীদের চাহিদাপত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দ্রুত সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক কণিকা মল্লিক স্থানীয় পর্যায়ে রেফারেল সিস্টেম কার্যকর করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে পুনরায় ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন কমানো সম্ভব। কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালকও অভিবাসীদের জন্য বিদ্যমান সরকারি সেবাসমূহ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন।
কর্মশালায় জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিদেশফেরত অভিবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের পুনঃএকত্রীকরণে কাজ করে যাচ্ছে।
১২০ বার পড়া হয়েছে