ময়মনসিংহে ইকবাল হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ নারীকে কারাদণ্ড
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামে ইকবাল (১৯) হত্যা মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে দুই নারীকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন দণ্ডপ্রাপ্তদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— একই গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী (৬২), তার ভাই মোহাম্মদ আলী (৫২), মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলু (৫১), শামছুল হক (৪৪), মো. গোলাম হোসেনের ছেলে আসিফ রানা নাঈম (২৪), হাজী আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. আব্দুল হেলিম (৫১) এবং মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু (১৯)।
এ ছাড়া সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী মোছা. খালেদা আক্তার (৪৯) এবং মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলুর স্ত্রী মোছা. রেহেনা খাতুন (৪৮)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে তারাকান্দার মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রউফের ছেলে শাহীনুর আলম ইকবালকে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে পুঁতে রাখা হয়। ঘটনাটি আড়াল করতে মরদেহের ওপর মৃত শিয়াল, গোবর ফেলে এবং সেখানে গাছ লাগানো হয়।
নিখোঁজ হওয়ার পর ইকবালকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার বড় ভাই সেলিম মিয়া তারাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ঘটনার পাঁচ দিন পর দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে অভিযুক্তদের বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংক থেকে পুলিশ ইকবালের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত শাহীনুর আলম ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
মামলার তদন্ত, ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তি-তর্ক শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন। অভিযুক্তদের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এ.এইচ.এম. খালেকুজ্জামান।
১১৯ বার পড়া হয়েছে