রাঙামাটিতে জলকেলির মধ্য দিয়ে শেষ হলো মারমাদের সাংগ্রাই বর্ষবরণ উৎসব
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাঙামাটিতে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি বা পানি খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে নৃ-গোষ্ঠীদের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রাই’। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয় রাঙামাটি চিংহ্লা মং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে। উৎসবকে ঘিরে পুরো শহরজুড়ে ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও সাংস্কৃতিক আমেজ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের সুষম উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে। পাহাড়ের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি তিনি পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলবে বলেও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্ম-বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সমানভাবে মর্যাদার দাবিদার। তিনি বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে ধারণ করেই জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের মাধ্যমে পার্বত্যাঞ্চলে সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংগ্রাই উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক পাই চিং মংমর। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোহাম্মদ একরামুল রাহাত, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রকিব উদ্দিন, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী ‘জলকেলি’ বা পানি খেলা। মারমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পানির মাধ্যমে পুরনো বছরের দুঃখ-দুর্দশা ধুয়ে মুছে নতুন বছরের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, গান এবং রঙিন পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।
আয়োজকরা জানান, সাংগ্রাই উৎসব কেবল মারমা সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি নয়, বরং এটি পাহাড়ি ও সমতলের জনগণের মধ্যে সম্প্রীতি, বন্ধন ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
১৬৪ বার পড়া হয়েছে