কক্সবাজারে কৃষক কার্ড বিতরণ: প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুততার দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, মাদকবিরোধী অভিযানের ঘোষণা
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ২:৪৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করে। ভোটের কালি শুকানোর আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ শুরু করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার কক্সবাজারের টেকনাফে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে টেকনাফ এজাহার মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান সভাপতিত্ব করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড চালুর পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ধর্মগুরুদের ভাতা এবং সাবেক-বর্তমান ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদানের কাজ এগিয়ে চলছে।
তিনি আরও জানান, দেশকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে। কক্সবাজারে মানবপাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণ, জুয়া ও অনলাইন জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি জানান, কৃষকদের স্বনির্ভর করতে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে কৃষক-কৃষাণীদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, স্বল্প খরচে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ, ভর্তুকি, কৃষি প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্যসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন।
কৃষি বিভাগের পাইলট প্রকল্পের আওতায় টেকনাফ উপজেলায় মোট ১,৬৯৮ জন কৃষক-কৃষাণীর মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১,৪৬৩ জন কৃষক ও ২৩৫ জন কৃষাণী রয়েছেন। উপকারভোগীদের মধ্যে অধিকাংশই শস্য চাষি, পাশাপাশি মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও লবণ চাষিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নির্বাচিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক রয়েছেন, যারা কৃষি প্রণোদনার সুবিধা পাবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ও লুৎফর রহমান কাজলসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় ১০ জন কৃষক ও ৫ জন কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও ফলজ গাছের চারা তুলে দেন।
১২৩ বার পড়া হয়েছে