সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী যুদ্ধনীতি’ ইসরায়েলের বাফার জোন কৌশল নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:০৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও, ইসরায়েল প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোতে ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির সামরিক ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজা, সিরিয়া এবং সর্বশেষ লেবাননে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ নীতি দেশটিকে কার্যত দীর্ঘস্থায়ী বা আধা-স্থায়ী যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী—লেবাননের হিজবুল্লাহ ও গাজার হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়—এ বাস্তবতা এখন ইসরায়েল স্বীকার করছে। ফলে সরাসরি বিজয়ের পরিবর্তে প্রতিপক্ষকে দুর্বল রাখা এবং নিয়ন্ত্রণে রাখাই নতুন লক্ষ্য হয়ে উঠছে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশেষজ্ঞ নাথান ব্রাউনের ভাষায়, “ইসরায়েল এখন এমন এক বাস্তবতায় পৌঁছেছে, যেখানে স্থায়ী সংঘাতের মধ্যেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা তাদের মূল কৌশল।”

লেবানন সীমান্তে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করে এবং লিতানি নদী পর্যন্ত একটি বাফার জোন তৈরির পরিকল্পনা নেয়। এতে লেবাননের প্রায় ৮ শতাংশ ভূখণ্ড অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত অঞ্চল ‘পরিষ্কার’ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, এসব এলাকায় হিজবুল্লাহর ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে এবং বহু ঘরবাড়ি অস্ত্রভাণ্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, গাজা, সিরিয়া ও লেবাননে উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপ ইসরায়েলের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করবে।

তবে এই কৌশল নিয়ে দেশটির ভেতরেও মতভেদ রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, একাধিক ফ্রন্টে দীর্ঘ সময় ধরে সেনা মোতায়েন রাখা ইসরায়েলের জন্য বড় চাপের কারণ হতে পারে।

ইসরায়েলের কট্টরপন্থী রাজনীতিকদের মধ্যে কেউ কেউ আরও বিস্তৃত ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দিচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ লিতানি নদী পর্যন্ত সীমান্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং গাজায় নতুন করে বসতি স্থাপনের কথাও বলেছেন।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, সামরিক প্রয়োজন ছাড়া বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির সম্ভাবনাও এখন অনেকটাই ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, খুব কম সংখ্যক ইসরায়েলি নাগরিকই ফিলিস্তিনের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনায় বিশ্বাস করেন।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, বাফার জোনকেন্দ্রিক এই নতুন নিরাপত্তা নীতি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

২৫৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন