সর্বশেষ

সারাদেশ

কারাবন্দী ছেলের কাছেই গেল বাবার লাশ, সমর্থক হয়েও আসামী

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দী ছেলের প্যারোলে মুক্তি না মেলায় বাবার মরদেহ কারাগারে নিয়ে গিয়ে শেষবারের মতো দেখা করানোর ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ফুল মিয়া (৬৮) মঙ্গলবার সকালে মারা গেলেও তার ছেলে মিলন মিয়া (৪০) প্যারোলে মুক্তি পাননি।

মঙ্গলবার দুপুরে মিলনের আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। তবে তা মঞ্জুর হয়নি। পরে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে বুধবার সকাল ১০টার দিকে ফ্রিজিং ভ্যানে করে ফুল মিয়ার মরদেহ কিশোরগঞ্জ কারাগারের ফটকে নেওয়া হয়। সেখানে বাবার লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন কারাবন্দী মিলন।

মিলন মিয়া ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লার চর গ্রামের বাসিন্দা ও ফুল মিয়ার বড় ছেলে। পেশায় তিনি ইট ও বালুর ব্যবসায়ী। তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে না থাকলেও দলটির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। পরিবারের দাবি, তার বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা ছিল না। ২০২৪ সালে তাকে আটক করে ভৈরব থানার একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি মিলনের জামিন মঞ্জুর হলেও তাকে মুক্তি না দিয়ে ২৬ জানুয়ারি বিশেষ ক্ষমতা আইনে ‘শো অরেস্ট’ দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে আটক রাখা হয়।

মিলনের আইনজীবী আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিন জানান, বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদের কাছে পাঠান। তবে মঙ্গলবার রাতে জানিয়ে দেওয়া হয়, প্যারোল দেওয়া সম্ভব নয়, কেবল মরদেহ কারা ফটকে এনে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মিলনের চাচা হাজী মতিউর রহমান বলেন, “আমার ভাতিজার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো মামলা ছিল না। অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে পরে মামলায় নাম যুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগে মঙ্গলবার সকালে আমার ভাই মারা যান। ছেলেকে অন্তত শেষবারের মতো বাবার জানাজায় নেওয়ার আশা ছিল, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “জানাজায় ছেলের উপস্থিতি না থাকা আমাদের জন্য খুব কষ্টের। বাবার লাশ নিয়ে জেলে যেতে হয়েছে—এমন ঘটনা জীবনে কখনো দেখিনি।”

মরদেহ দেখার পর মিলনকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। দুপুরের পর গ্রামের বাড়িতে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হলেও সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি।

প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। গত ২৪ জানুয়ারি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। তাকেও যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে শেষবারের মতো স্বজনদের মুখ দেখতে দেওয়া হয়েছিল।

৩৫১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০