খুলনায় ১৫ দিনে ৪ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাঁদার দাবিতে হামলা, চাঞ্চল্য
শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
খুলনা নগরীতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী চক্র। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে নগরীর চারটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাঙচুর, গুলি ও চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ খান জাহান আলী রোডের নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আচমকা প্রবেশ করে। হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে রিসেপশন কাউন্টার, দুটি এসি, একটি টেলিভিশন এবং সামনের দরজার গ্লাস কুপিয়ে চুরমার করে দেয়। এসময় তারা এক স্বাস্থ্যকর্মীর হাত থেকে একটি মূল্যবান স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। হঠাৎ এই হামলায় ক্লিনিকে থাকা রোগী ও চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন জানান, প্রায় এক মাস আগে নগরীর টুটপাড়া এলাকার এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা চাঁদার দাবিতে এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। ঘটনার পর খুলনা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভির ফুটেজ উদ্ধার করেছে। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন রিপন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে যৌথ অভিযান চলছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীতে গত ১৫ দিনে মোট চারটি চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা ও তাণ্ডব চালিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। গত ২৪ অক্টোবর রাতে বাবুখান রোডের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাঙচুর ও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এর পরদিনই সোনাডাঙ্গায় সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বিতীয় শাখায় হামলা চালিয়ে ডিউটিরত চিকিৎসকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়।
পরবর্তীতে ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় সামসুর রহমান রোডের রংধনু ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আবদুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলা চালিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এছাড়া গত ২৯ অক্টোবর ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার কারণে নগরীর বহুল আলোচিত চয়নিকা ফার্মেসি এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে। একের পর এক এসব সহিংস ঘটনায় খুলনার স্বাস্থ্য খাতে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
১০৮ বার পড়া হয়েছে