সর্বশেষ

জাতীয়

আন্দোলন থামাতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ২:১৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
চলমান শ্রমিক আন্দোলন মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার আলোচনায় প্রস্তুত। তবে শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতা ও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

চলমান শ্রমিক আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আন্দোলন, রাজনৈতিক এজেন্ডা নাকি সহিংসতা—তা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী নতুন করে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়নে কিছুটা সময় লাগায় বোর্ড গঠনে বিলম্ব হয়েছিল। তবে শ্রমিকপক্ষের নাম পাওয়ার পরদিনই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বুধবার বোর্ডের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নতুন মজুরি নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি শ্রমিক, শ্রম ও শিল্পবান্ধব। সরকারের লক্ষ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ।

চলমান সহিংসতা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে যেসব কর্মকাণ্ড হচ্ছে, সেগুলোর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো দাবি নেই। শ্রমিক পরিচয়ের বাইরে থাকা কিছু ব্যক্তি শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সহিংসতায় জড়াচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন—এমন কয়েকজন শিল্পমালিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও সামনে এসেছে। তাঁদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মাফিয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের আশঙ্কা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেকোনো ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার আলোচনায় প্রস্তুত। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থা রয়েছে। মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সরকার বৈঠক করেছে। তাঁদের অনেকেই স্বীকার করেছেন, বর্তমান সহিংসতা শ্রমিক আন্দোলনের অংশ নয়। বরং শ্রমিকদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলায় আহত হয়েছেন। তাঁদের অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এরপরও তাঁরা যথাসম্ভব শ্রমিকদের ওপর বল প্রয়োগ থেকে বিরত রয়েছেন। কারণ, শ্রমিকদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে শ্রমিকদের খেয়াল রাখতে হবে। ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করে কার্যক্রম শুরু করেছে। তাই এখন আন্দোলনের প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মজুরি ঘোষণা করতে মজুরি বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই মজুরি ঘোষণা করা সম্ভব হলে সেটি সবচেয়ে ভালো হবে।

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০