ফরিদপুরে ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ৩, উদ্ধার ডাকাতির মোটরসাইকেল
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ২:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের চাকরিচ্যুত দুই সাবেক সদস্য রয়েছেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া ১৫০ সিসির একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা সাবেক পুলিশ সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪) ও তাঁর সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকা (৩৬) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা দুজনই গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাসিন্দা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই করে আসছিলেন। চুরি ও ছিনতাই করা ইজিবাইকগুলো পরে মুকসুদপুরের মন্টু মিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হতো। লিমনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সাবেক সেনা সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়। খুলনা সদর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর হেফাজত থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া ১৫০ সিসির ইয়ামাহা মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, জাহাঙ্গীর ও তাঁর সহযোগীরা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১২০ বার পড়া হয়েছে