সর্বশেষ

সারাদেশ

সব সচিব সময়মতো আসলে আমিও আসবো: ইউপি সচিবের অদ্ভুত মন্তব্য

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ
বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৭:৪৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
অফিসে নিয়মিত দেরিতে আসা ও নানা অনিয়মের অভিযোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) লিপী ঘরামীকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সময়মতো অফিসে আসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘দেশের সব সচিব যদি ঠিক সময়ে অফিসে আসেন, তবেই না আমি নিয়ম মেনে সময়মতো অফিসে আসব।’ তাঁর এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সেবাপ্রত্যাশীরা।

গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লিপী ঘরামীর বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা, দেরিতে অফিসে আসা, নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ত্যাগ করা এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ৯ জন সদস্য স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সচিব নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। অফিসে এলেও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে আসেন এবং আগেভাগে চলে যান। এ ছাড়া দাপ্তরিক গোপনীয় তথ্য বাইরে প্রকাশ, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা এবং ট্রেড লাইসেন্স ও ওয়ারিশ সনদের ফি বাবদ আদায় করা অর্থের সঠিক হিসাব না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, তাঁরা সকাল ৯টায় ইউনিয়ন পরিষদে এসে অপেক্ষা করলেও সচিবের দেখা মেলে সকাল ১০টা, কখনো ১১টা, আবার কোনো দিন দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পর। কখন অফিসে আসবেন, তা ফোন করে জানতে চাইলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার এমন আচরণ ও বিতর্কিত মন্তব্যে এলাকায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

নিয়মিত দেরিতে অফিসে আসার কারণ জানতে চাইলে লিপী ঘরামী বলেন, তিনি দূর-দূরান্ত থেকে গোপালগঞ্জ উপজেলা হয়ে কর্মস্থলে আসেন। তাই তাঁর দেরি হতে পারে।

প্রতিদিন সকাল ৯টার পরিবর্তে সাড়ে ১০টা বা ১১টায় অফিসে আসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সব সচিব কি ঠিক সময়ে অফিসে যান? দেশের সব সচিব যদি ঠিক সময়ে যান, তবে আমিও ঠিক সময়ে আসব।’

গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রমেন্দ্রনাথ ঢালী বলেন, ‘সচিব আমাদের কোনো কথাই শোনেন না। তিনি তাঁর ইচ্ছেমতো অফিসে আসেন এবং কাজ করেন। তাঁর এই স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সরকারি সেবায় চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে গোপালগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রেজওয়ানা কবির বলেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত সচিবকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

১৩৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০