সর্বশেষ

সারাদেশ

রাজবাড়ী ডাকঘরে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ, ৭ জন কারাগারে

সাজিদ হোসেন, রাজবাড়ী
সাজিদ হোসেন, রাজবাড়ী

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৩:৪২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের ১০৪ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় সাতজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেওয়া হয়। এদিকে আসামিদের জামিন বাতিল ও আত্মসাৎ করা টাকা ফেরতের দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

মঙ্গলবার রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো সাতজন হলেন রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের মাহবুবুর রহমান, পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাসান, এমএলএসএস মো. রেজাউল আলম, পোস্টাল অপারেটর এস এম নুরুজ্জামান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস এবং ডাক বিভাগের কর্মচারী নুরুল মাসুদ।

সকাল থেকেই ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন। এ সময় তাঁরা আসামিদের জামিন না দেওয়ার পাশাপাশি আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাছরিন আক্তার বাদী হয়ে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় করা এ মামলাটি গ্রহণ করে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় লেটার রাইটার শিহাব মৃধা সঞ্চয় হিসাব খোলার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে সাদা স্লিপের মাধ্যমে টাকা নেন। এসব স্লিপে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করা হতো। ১০৪ জন গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় দেড় কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, পিএলআই এজেন্ট মাহবুব মৃধা, ট্রেজারার পবিত্র কুমার সরকার, পোস্টাল অপারেটর মো. গোলাম মোস্তফা বাচ্চু এবং রোকসানা আক্তার।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ-২, নজরুল ইসলাম লাভলু ও খান মো. জহুরুল হক জানান, ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাতজন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে গত ১২ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাটি তদন্তে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে যান। ওই সময় অভিযোগের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত লেটার রাইটার শিহাব মৃধাকে ডাকঘরে পাওয়া গেলেও তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ না করে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকে তিনি পলাতক। তাঁর বাড়িতে খোঁজ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা এখনো ডাকঘরে গিয়ে তাঁদের জমা করা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। এদিকে ঘটনার পর পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রকে কুষ্টিয়ায় বদলি করা হয়েছে। তবে এ বদলির বিষয়ে ভিন্ন উদ্দেশ্যের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

ঘটনা তদন্তে গত ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদের স্বাক্ষরে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেলকে সভাপতি এবং খুলনা সার্কেল কার্যালয়ের সুপারিনটেনডেন্টকে (তদন্ত) সদস্যসচিব করা হয়। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চল, খুলনার ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (তদন্ত) এবং কুষ্টিয়া বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলকে সদস্য করা হয়।

কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ডাক বিভাগের বিধিবিধান বা পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে সরকারি অর্থের ক্ষতি হয়ে থাকলে তা সংশোধন ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করার কথাও বলা হয়।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের নবাগত পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ বলেন, ২০২১ সাল থেকে শিহাব মৃধা ডাকঘরে সহায়ক কর্মী হিসেবে লেটার রাইটারের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি সরকারি কর্মচারী নন। ডাক অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের কর্মীরা বিভিন্ন ডাকঘরে দায়িত্ব পালন করেন।

শামীম আহমেদ আরও বলেন, মেয়াদি সঞ্চয় হিসাব খোলার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শিহাবের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় অর্ধশত গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। গ্রাহকেরা সঞ্চয়পত্রের বই না পাওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

তিনি জানান, গত ৬ জুলাই তিনি রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে যোগদান করেন। যোগদানের পর ঘটনা জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তাঁদের পরামর্শে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে বিষয়টি কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয় এবং সেখান থেকে খুলনা সার্কেল কার্যালয়ে জানানো হয়। এরপর একটি মামলা করা হয়।

১১৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০