রাজবাড়ীতে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে হত্যা, একজনের যাবজ্জীবন
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৩:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজবাড়ীর পাংশায় পাওনা টাকা ফেরত আনতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে কাতারপ্রবাসী আবদুর রহিম মোল্লা (৩০) হত্যার মামলায় সাদ্দাম হোসেন মিয়া (৩৬) নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আনিসুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত আবদুর রহিম মোল্লা পাংশা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল মান্নান মোল্লার ছেলে। তিনি কাতারপ্রবাসী ছিলেন। তাঁর ভাই আব্দুর রহমানকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সাদ্দাম হোসেন মিয়া, পলাশ মন্ডল, রাশেদ মন্ডল ও শরীফ মুন্সী মিলে ১০ হাজার টাকা নেন।
২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে আবদুর রহিমকে পাংশা সরকারি কলেজ এলাকার চাচার ক্যান্টিনে ডেকে নেওয়া হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি ক্যান্টিনের সামনে গেলে তাঁকে ছুরি দিয়ে পেট ও ঊরুতে আঘাত করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় আবদুর রহিমকে উদ্ধার করে প্রথমে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর ভোর পাঁচটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ময়না বেগম বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
রায়ের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল আলম আশা বলেন, বিচারক রায়ে ন্যায়বিচার করেছেন। একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর তিনজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তাঁরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।
রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক (২) বলেন, পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে আবদুর রহিমকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সাদ্দাম হোসেন মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অপর তিন আসামি পলাশ মন্ডল, রাশেদ মন্ডল ও শরীফ মুন্সীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
১১৩ বার পড়া হয়েছে