সর্বশেষ

সারাদেশ

মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক সফর, দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়নের নতুন জোয়ার

রেজা মাসুদ, মংলা
রেজা মাসুদ, মংলা

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৪:৩০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী ৫ নভেম্বর বন্দরটি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারপ্রধান সরাসরি ঢাকা থেকে মোংলা বন্দর সফরে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে মোংলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-০১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৫ নভেম্বর সকালে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে সরাসরি বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।

এ ছাড়া ইনভেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সড়কপথে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে মাজার জিয়ারত শেষে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি।

খুলনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়াপ্রতিভা অন্বেষণে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

এটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর। সফরে তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা থাকবেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মোংলা বন্দরকে আধুনিক ও গতিশীল করতে কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, এসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং স্থানীয় বেকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে নতুন জেটি নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন অর্থায়ন করবে ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। বাকি ৪৭৫ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার।

প্রকল্পের আওতায় ৩৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের নতুন কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণ করা হবে। এতে বিপজ্জনক পণ্য ওঠানো-নামানোর বিশেষ ব্যবস্থাও থাকবে। নতুন কনটেইনার ইয়ার্ডে যুক্ত করা হবে ৪৯টি সরঞ্জাম। এর ফলে প্রতি ঘণ্টায় ৩০টির বেশি কনটেইনার ওঠানো-নামানো সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে চার লাখ টিইইউএস কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করবে মোংলা বন্দর।

মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান সরাসরি মোংলা বন্দরে আসছেন। এটি স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে মোংলা বন্দর দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া উন্নয়ন উদ্যোগ মোংলাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে দেবে। বন্দরকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় মোংলা পৌর বিএনপি, অঙ্গসংগঠন এবং স্থানীয় নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মোংলা-রামপাল (বাগেরহাট-৩) আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর এই সফর মোংলা বন্দরকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। বন্দরকে কেন্দ্র করে শুরু হতে যাওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করবে এবং বেকারত্ব দূর করতে সহায়তা করবে। মোংলা-রামপালসহ পুরো দেশের মানুষ এসব উন্নয়নের সুফল ভোগ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার কার্যক্রম জোরদার এবং অঞ্চলটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পর্যালোচনায় বন্দরটি পরিদর্শন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উপকূলীয় এলাকা ও খুলনা সফরের অংশ হিসেবে তিনি নৌপথে মোংলা বন্দরে পৌঁছান। এ সময় বন্দরের জেটি ও সার্বিক পরিচালন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বন্দরের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

২০৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০