সর্বশেষ

সারাদেশ

শ্রমিকদের আন্দোলনে পরাজিত শক্তির ইন্ধন আছে: রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১:০৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে পরাজিত শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, শ্রমিকদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে রাজপথে নামিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এ আন্দোলনে পরাজিত শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট নগরের দরগাহ গেট এলাকার একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে উসকানি দিয়ে আন্দোলনে নামানোর চেষ্টা চলছে। এর পেছনে কারা জড়িত, তার প্রমাণও পাওয়া গেছে। গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে একজন নেতা উসকানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁরা ভেতরে থেকে যেসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, সেসব নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তাঁদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভীর অভিযোগ, পরাজিত শক্তি শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করে রাজপথে নামানোর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। জনগণের কাছে এ ধরনের কর্মকাণ্ড এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতের আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, একটি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র আট মাস হয়েছে। এ সময় সরকার দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও ব্যবসা সম্প্রসারণে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করছেন এবং সেসবের মাধ্যমে বিনিয়োগ এনে দেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি ১৭ বছর প্রকাশ্যে আন্দোলন করেছে। এ লড়াইয়ে অনেক নেতাকর্মী রক্ত দিয়েছেন এবং জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর মতে, গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা জনগণ গ্রহণ করবে না। এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা মানুষ বুঝতে পারছে।

তিনি বলেন, দেশের জনগণ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তাদের জোট ক্ষমতায় এসেছে। কেউ চোরাপথে কিংবা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় নানা সংকটের মুখে ছিল। এর মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে সংকট দেখা দেয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিকল্প দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকার কাজ করছে।

রিজভীর ভাষ্য, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধ এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোন প্রার্থী জনপ্রিয়, কার গ্রহণযোগ্যতা ও জয়ের সম্ভাবনা বেশি, তা স্থানীয় নেতারা নির্ধারণ করবেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আলোচনা করে প্রার্থী বাছাই করবেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।

মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

১১১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০