দৌলতপুরে শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করায় প্রধান শিক্ষককে লক্ষ্য করে ককটেল হামলা
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১:৪৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষককে লক্ষ্য করে বোমা জাতীয় দুটি বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মুঠোফোন জব্দ করেন। এ ছাড়া পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, বহিষ্কৃত ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে পরে বিদ্যালয়ে আসে। এরপর প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করলে সেগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তানজিন রহমান রিদু উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদিপুর গ্রামের মিন্টুর ছেলে। তিনি জামায়াত নেতা খাজা আহামেদের বিশ্বস্ত কর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াতের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহামেদের নাম পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে খাজা আহামেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ ঘটনায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহামেদের নাম পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩০০ বার পড়া হয়েছে