জাকের-নাঈমের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা, বাংলাদেশের লিড ১০৬
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করার পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় স্পিনারদের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকেরা। তবে জাকের আলি অনিক ও নাঈম হাসানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছে বাংলাদেশ। আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৭৯ রান। এতে সফরকারীদের বিপক্ষে স্বাগতিকদের লিড হয়েছে ১০৬ রান।
মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকেরা। একপর্যায়ে ১০০ রানের লিড নেওয়াও কঠিন মনে হচ্ছিল। তবে জাকের আলি অনিক ও নাঈম হাসানের ব্যাটিংয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বাংলাদেশ শিবিরে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। প্রথম ইনিংসের ব্যবধান মিলিয়ে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। পরে আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। শামার জোসেফের লেগ স্টাম্প বরাবর করা ফুল লেন্থের বল ফ্লিক করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান তামিম। আগের ইনিংসে ৭ রান করা এই ওপেনার এবার কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। তখন দলের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১ রান।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাদমান ইসলামের ব্যাটে কিছুটা এগোয় বাংলাদেশ। তাঁদের জুটিতে দলের লিড ৫০ রান ছাড়ায়। তবে ইনিংসের ১১তম ওভারে আবারও বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকেরা। মাত্র তিন বলের ব্যবধানে বিদায় নেন আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা সাদমান ও তাওহিদ হৃদয়।
৩০ বলে ১৩ রান করে চেজের বলে বোল্ড হন সাদমান। পরের বলগুলোতে আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেন হৃদয়। কিন্তু শামার জোসেফের বলে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। আগের ইনিংসে ৪২ রান করা এই ব্যাটার এবার কোনো রান করতে পারেননি।
পরে শান্ত আউট হলে ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়া মুমিনুল হকের বদলি হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন জাকের আলি অনিক। দলের স্কোরে আরও এক রান যোগ হওয়ার পরই মিরপুরে বৃষ্টি শুরু হয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই চা বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির আগে মাত্র ৩৪ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
এর আগে দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় দিনে প্রথমে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তেজনারায়ণ চন্দরপল। ১৮৪ বলের ইনিংসে ৬টি চার ও একটি ছক্কায় ৫৬ রান করেন তিনি। শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ব্যাটার। এর আগে জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি।
গ্রিভসও ভালো অবস্থানে ছিলেন। তবে মুমিনুল হক তাঁর সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ায় একবার জীবন পান তিনি। শেষ পর্যন্ত নাঈম হাসানের অফ স্পিনে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন গ্রিভস। ১০৩ বলে ২টি চারে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৪৬ রান।
মধ্যাহ্নবিরতির পর বাংলাদেশের দুই অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাকি চারটি উইকেট ভাগাভাগি করে নেন। অভিষিক্ত অলরাউন্ডার জশুয়া বিশপ শুরুতে তিনটি চার মারলেও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। মিরাজের বলে স্টাম্পিং হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এরপর শামার জোসেফকে ৪ রানে লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন নাঈম। জোমেল ওয়ারিকানকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ এবং জেইডেন সিলসকে শূন্য রানে মিরাজের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন নাঈম হাসান। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম সময়ে ৫০ উইকেট নেওয়ার মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম দুটি করে এবং হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম একটি করে উইকেট নেন।
১০৮ বার পড়া হয়েছে