দৌলতপুরে বাঁশ কাটার বিরোধে যুবকের হাত বিচ্ছিন্ন, মহিষ ও পাট লুট
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রনি (৩২) নামের এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর বাড়িঘরে হামলা, ১৩টি মহিষ ও দুই গাড়ি পাট (৩০ মণ) লুট এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত রনি জামালপুর গ্রামের মৃত বিশু লাঠারের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বসার মাচা তৈরির জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বাঁশ চাওয়া হয়। এ সময় রনির অনুমতি ছাড়াই তাঁর বাঁশঝাড় থেকে চার-পাঁচটি বাঁশ কেটে বিজিবিকে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সুমন নামের এক ব্যক্তিকে গালিগালাজ করেন রনি। এর জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে মহিষের জন্য মাঠ থেকে ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন রনি। পথে গ্রামের কবরস্থানের পাশে তাঁকে একা পেয়ে কয়েকজন হামলা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিরের ছেলে সুমন (২৬) হামলায় নেতৃত্ব দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শামসুল মণ্ডলের ছেলে উজির (৪৫), উজিরের ছেলে রুমন (২২), রব কুলের ছেলে কামু (৩০), জাম্বু (২৫), রঞ্জিত মণ্ডলের ছেলে লস্কর (৩৫), শহিদুলের ছেলে মন্টু (২৬)সহ আরও কয়েকজন। তাঁরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে রনির ওপর হামলা চালান। এ সময় আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাঁর ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও গুরুতর জখম হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা রনিকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে কুষ্টিয়ায় পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।
এদিকে, রনিকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাড়িতে লুটপাট চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, এ সময় বাড়ি থেকে ১৩টি মহিষ ও দুই গাড়ি পাট, যার পরিমাণ প্রায় ৩০ মণ, নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া রনির ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয় নিয়ামতের বাড়ি থেকে লুটের অভিযোগ থাকা ১৩টি মহিষ উদ্ধার করা হয়। পাচারের সময় উদ্ধার করা হয় দুই গাড়ি পাটও।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে রনি নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লুটের অভিযোগ থাকা ১৩টি মহিষ ও দুই গাড়ি পাট উদ্ধার করেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। দ্রুত তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বিজিবির জন্য বাঁশ কাটার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বিষয়টি জেনে পরে জানাবেন।
১২৮ বার পড়া হয়েছে