বান্দরবানে ওয়াগোয়াই পোয়ে উৎসব ঘিরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মাহা ওয়াগোয়াই পোয়ে উৎসব ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপন ঘিরে দুই কমিটির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সমন্বিতভাবে উৎসব আয়োজনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কথা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে জেলা উৎসব উদ্যাপন পরিষদ।
বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব মাহা ওয়াগোয়াই পোয়ে ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্যাপন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা উৎসব উদ্যাপন পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সম্মেলনকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা উৎসব উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি উ চ নু মং মার্মা।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উ চ নু মং মার্মা বলেন, উৎসব উদ্যাপন নিয়ে দুই কমিটির মধ্যে থাকা মতবিরোধ নিরসনে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় সমন্বিতভাবে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অপর কমিটি সেই প্রস্তাবে সম্মত হয়নি।
তিনি বলেন, বিভাজন দূর করে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ওয়াগোয়াই পোয়ে উদ্যাপনে তাঁরা সম্মত ছিলেন। কিন্তু অপর কমিটি তাঁদের সমন্বিতভাবে উৎসব আয়োজনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উ চ নু মং মার্মা আরও বলেন, বান্দরবানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ সংঘাত, বিশৃঙ্খলা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা চান না। সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ যেন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, এর আগে মাহা সাংগ্রাই উৎসব আয়োজন নিয়েও দুই পক্ষের পৃথক উদ্যোগ দেখা দিয়েছিল। সে সময় সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উ চ নু মং মার্মা ও তাঁর কমিটি উৎসব উদ্যাপন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল।
এ বছর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে একসঙ্গে উৎসব আয়োজন করা হবে। তবে সমন্বিতভাবে আয়োজনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা উৎসব উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উ ক্য সিং মার্মা, বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. এন এ জাকিরসহ পরিষদের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরাও অংশ নেন।
জেলা উৎসব উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি উ চ নু মং মার্মা ও সাধারণ সম্পাদক উ ক্য সিং মার্মার স্বাক্ষরিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর শুরু হওয়া ছয় দিনের আয়োজন শেষ হবে ২৬ অক্টোবর।
কর্মসূচিতে রয়েছে হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট, ম্যারাথন প্রতিযোগিতা, মঙ্গল রথযাত্রা, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন, ফানুস উত্তোলন এবং পাড়াভিত্তিক পিঠা তৈরি উৎসব।
কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর বিকেল ৩টায় হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ অক্টোবর সকাল ৫টায় হবে ম্যারাথন প্রতিযোগিতা। একই দিন বিকেল ৩টায় দায়ক-দায়িকা ও সাধারণ মানুষের পূজার উদ্দেশ্যে মঙ্গল রথযাত্রা বের করা হবে।
২৬ অক্টোবর সকাল ৫টায় বিহারের পূজার উদ্দেশ্যে মঙ্গল রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন ও চুলামণি জাদির উদ্দেশ্যে ফানুস উত্তোলন করা হবে। সন্ধ্যা ৭টায় পাড়াভিত্তিক পিঠা তৈরি উৎসবের মধ্য দিয়ে এবারের আয়োজন শেষ হবে।
১২১ বার পড়া হয়েছে