মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি
বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আগামী ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা ও উপকূলীয় অঞ্চল সফরকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের মোংলা ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সড়ক সংস্কার, বন্দর এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং নিরাপত্তা জোরদারসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছে। সফর ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও তৎপরতা বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মোংলা ও উপকূলীয় অঞ্চল সফর ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সফরটি সফল করতে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে দিগরাজ থেকে মোংলা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ ভাঙাচোরা সড়ক দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের কাজ চলছে। একই সঙ্গে খুলনার দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কপথ সংস্কার করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রম স্থানীয় বাসিন্দাদের নজর কেড়েছে।
সফর উপলক্ষে মোংলা সমুদ্রবন্দরের জেটি এলাকা, নৌযান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। ২২ অক্টোবর দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বন্দর জেটি এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কথা রয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন।
সফরের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে আকাশপথে সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ। বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখবেন এবং হিরণ পয়েন্ট এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। এ উপলক্ষে বন বিভাগের সব স্টেশন ও টহল ফাঁড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে আকাশপথে সুন্দরবন পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি দাকোপের নলিয়ান লঞ্চঘাট পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে নৌপথে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা মোংলায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর। পরে দুপুরে মোংলা বন্দরের জেটি এলাকা পরিদর্শন করবেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তাবিত অবস্থায় থাকা মোংলা বেজার অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন শেষে বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর মোংলা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে দলীয় পর্যায়েও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রস্তুতি।
স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন চাহিদা পূরণে অগ্রগতি হবে। পাশাপাশি মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
১১৭ বার পড়া হয়েছে