ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছাড়াই চলছিলো বাস, তদন্তে ৭ জনের কমিটি
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ না থাকার তথ্য জানিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার।
নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নাটোর বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত আরপি পরিবহনের বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ১৩ মে। তবে বাসটির রুট পারমিটের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত। ফিটনেসবিহীন বাসটি এত দিন কীভাবে মহাসড়কে চলাচল করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসটির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। এ দুর্ঘটনায় বাস ও ট্রাকের চালকও নিহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), একই উপজেলার বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে শালাল মোল্লা (৪৫) এবং কাজীরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫)।
এ ছাড়া জাজিরা উপজেলার সামাদ (৭০), কাশেম (৩৫) ও জহুর উদ্দিনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত বাসচালকের নাম সোহেল রানা (৪০)। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে।
দুর্ঘটনার পর সকালে আহত অবস্থায় নয়জনকে নাটোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। বাকি সাতজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য চারজন নাটোরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর সকালে ঘটনাস্থল সরকারপাড়ায় যান জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপার শরীফুল হক। এ সময় জেলা প্রশাসক নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।
পুলিশ সুপার শরীফুল হক ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। দুর্ঘটনা কমাতে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১২১ বার পড়া হয়েছে