সর্বশেষ

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: আলোচনা হবে মেট্রোর ব্যয় কমানো প্রসঙ্গে

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণের সুদ কমানোর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে আলোচনায় উঠবে। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-১) প্রকল্পের ব্যয় ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বাড়ানোর পর এ নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অবকাঠামোগত সহযোগিতা ও ঋণের সুদ কমানোর বিষয়গুলো আলোচনা করা হবে। তবে এ বিষয়ে কী ফল আসবে, তা আলোচনার পর বোঝা যাবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আগামী ২৫ থেকে ২৮ অক্টোবর জাপান সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তাঁর চতুর্থ বিদেশ সফর।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান (শাকিল)।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় ১১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বাড়ানো হয়। জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের ব্যয় কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরে আলোচনা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, অবকাঠামো নির্মাণে জাপানের কাছ থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে। মেট্রোরেল ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে অন্যান্য অবকাঠামোগত সহযোগিতা রয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

ঋণের সুদ কমানোর বিষয়ে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের কাছ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে চায়। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও প্রতিটি দেশের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ কারণও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় আলোচনায় তোলা হবে। আলোচনার পরই এর ফলাফল বোঝা যাবে।

জাপানের অর্থায়নে নির্মাণাধীন বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে একটি ‘শিল্প ভ্যালু চেইন’ গড়ে তুলতে চায় জাপান। এর মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতার সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে ১০ বছর পর বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করবে, তা পরিচালনার জন্য বন্দরগুলোর যে সক্ষমতা দরকার, সেই বিবেচনা থেকেই মাতারবাড়ী বন্দর সম্প্রসারণের প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব। সফরে তারেক রহমান জাপানের চিবা এলএনজি টার্মিনাল পরিদর্শন করবেন। এ ছাড়া একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিলিভারের সদর দপ্তর এবং নাগানোতে টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের বর্তমান সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ সম্পর্কের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আসাদ আলম সিয়ামের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সফর দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও সুদৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করবে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশটি ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্প নির্মাণ এবং বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে আসছে।

পররাষ্ট্রসচিব আশা প্রকাশ করেন, এবারের সফরের মাধ্যমে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়বে, জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, গবেষণা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারিত হবে।

সফরের দ্বিতীয় দিন ২৬ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। এদিন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেবেন তিনি।

এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের চেয়ারম্যান, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের সভাপতি এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন বলেও জানান পররাষ্ট্রসচিব।

তিনি বলেন, সফরের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং সম্পর্কের নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আসার পাশাপাশি চলমান গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো দ্রুত ও নির্ধারিত সময়ে শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, উন্নয়ন সহায়তা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, এ বিষয়ে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্মারক সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০