মোংলায় চাঁদা না পেয়ে যুবকের পা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ
সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১:২৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাগেরহাটের মোংলায় চুরির অভিযোগ তুলে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির পর কাওছার শেখ (২৫) নামের এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মায়ের সামনেই তাঁকে মারধর করে ডান পায়ের গোড়ালির হাড় ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তাঁর মা রোকেয়া বেগম। ঘটনার চার দিন পর ১৮ অক্টোবর বিকেলে মোংলা থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
বাগেরহাটের মোংলায় চুরির অভিযোগ তুলে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তা দিতে না পারায় এক যুবককে ধরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নির্যাতনে কাওছার শেখ (২৫) নামের ওই যুবকের ডান পায়ের গোড়ালির হাড় ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর মা রোকেয়া বেগম। গুরুতর আহত অবস্থায় কাওছারকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোড়া বাঁশতলা এলাকার বাড়ি থেকে কাওছারকে তুলে নিয়ে যান স্থানীয় মহাসিন বেপারী, ইয়াসিন বেপারী, ইমরান হাওলাদার, আনোয়ার তালুকদার, সোহাগ হাওলাদার, জোবায়ের হাওলাদার ও রেজাউল হাওলাদারসহ কয়েকজন। পরে গোড়া বুড়বুড়িয়া এলাকায় মহাসিনের মাছের ঘেরের ডিপুর মধ্যে আটকে রেখে তাঁকে মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাওছারের মা রোকেয়া বেগম মৃত জয়নাল সরদারের স্ত্রী। তিনি এলাকায় অত্যন্ত দরিদ্র অবস্থায় বসবাস করেন। ছেলেকে আটকে রেখে নির্যাতন করার খবর পেয়ে তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেন।
রোকেয়া বেগমের অভিযোগ, এ সময় তাঁর ছেলের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দরিদ্র পরিবারটি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চুরির অভিযোগ তুলে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে টাকা পরিশোধ করতে বলা হলেও পরিবারটি তা দিতে পারেনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে লোকজনের সামনে কাওছারকে বেধড়ক মারধর করেন।
ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে রোকেয়া বেগমকেও ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপরও কাওছারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কাওছার। নির্যাতনে তাঁর ডান পায়ের গোড়ালির হাড় ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রোকেয়া বেগমকে ডেকে নিয়ে যান। কোথাও অভিযোগ না করার জন্য তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ না করলে তাঁর ছেলেকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
পরে স্বজনদের সহায়তায় গুরুতর আহত কাওছারকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন তাঁর মা। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভয়ে পরিবারটি প্রথমে থানায় অভিযোগ করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন রোকেয়া বেগম। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছেলের পাশে থেকে তিনি পরিবারের নিরাপত্তা ও ঘটনার বিচার দাবি করেন।
রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমরা অতি গরিব মানুষ। চুরির অভিযোগ তুলে তাঁদের কাছে জোর করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। টাকা না দেওয়ায় আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে হাড় ভেঙে দিয়েছে। আমি একজন বৃদ্ধা ও অসহায় মা। আমি এর উপযুক্ত বিচার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।’
ঘটনার চার দিন পর, ১৮ অক্টোবর বিকেলে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে মোংলা থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে মোংলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম বলেন, তাঁরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্যায়ভাবে চাঁদা দাবি করা কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে নির্যাতন করা গুরুতর অপরাধ।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।
১৮৮ বার পড়া হয়েছে