সর্বশেষ

জাতীয়

কয়েকটি গণমাধ্যম অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে: ইশরাক 

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:৩৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া ও আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরার ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কর্মসূচিটি পুলিশ, স্থানীয় রাজনীতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে আয়োজন করা হয়েছিল।

গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। আজ রোববার দুপুরে নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে ঘটনার ব্যাখ্যা দেন তিনি।

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসনের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ পাচ্ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান যাতায়াতকেন্দ্রে পরিণত হয় বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত জুন মাসে মাদক-সংক্রান্ত একটি সহিংস ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভাও করেন। জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছাকাছি স্থানে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা-সরকারি পত্র দেন তিনি। তবে বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে তিনি জানতে পেরেছিলেন, মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে। কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করতে করতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন।

এ পরিস্থিতিতে হামলার আশঙ্কা থেকে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। ইশরাকের ভাষ্য, ‘এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।’

তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। তাঁর দাবি, আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং সেটি প্রদর্শন করা হয়েছে কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে ও আইনি কাঠামোর মধ্যে।

ইশরাক হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান চালানো হয়।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব আস্তানা থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ছয়জন মাদক কারবারিকে আটক করে থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।

গণমাধ্যমের সংবাদ নিয়ে অভিযোগ
বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশন নিয়ে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এসব গণমাধ্যম খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ প্রকাশ করেছে।

ইশরাকের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সংবাদগুলোতে অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জনকে আটকের বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম দিয়ে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। এর মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইশরাক হোসেন জানান, জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

১৮৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০