সর্বশেষ

সারাদেশ

তেঁতুলিয়ার আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াবী রূপ, বাড়ছে পর্যটক

কামরুজ্জামান টুটুল, পঞ্চগড়
কামরুজ্জামান টুটুল, পঞ্চগড়

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:৫০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, দূর দিগন্তে বরফে ঢাকা সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ—এ যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ছবি। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় এবার আগেভাগেই দেখা মিলছে হিমালয়ের অন্যতম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। ভোরের শুভ্রতা থেকে সূর্যের সোনালি আভা, কখনো আবার লালচে রঙের মায়াবী ছটা—প্রতিটি মুহূর্তেই বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের রূপ। এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসছেন পর্যটকেরা।

শরতের আকাশে মেঘের আনাগোনা, বাতাসে হালকা শীতের আগমনী বার্তা। এরই মধ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় প্রকৃতিপ্রেমীদের চোখ আটকে যাচ্ছে দিগন্তের ওপারে। বরফে মোড়ানো বিশাল পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা যেন নীল আকাশের ক্যানভাসে সাদা রঙের তুলির আঁচড়। সূর্যের আলোয় কখনো সোনালি, কখনো গোলাপি, আবার কখনো লালচে আভায় ঝলমল করে উঠছে পাহাড়ের চূড়া।

দূর থেকে দেখা গেলেও সৌন্দর্যের টানে যেন দূরত্বের হিসাব ভুলে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা, যানজট আর কর্মচাপ পেছনে ফেলে কেউ এসেছেন একটু প্রশান্তির খোঁজে, কেউবা এসেছেন জীবনের স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করতে। পাহাড়ের অপরূপ রূপ দেখে তাঁদের চোখেমুখে ফুটে উঠছে মুগ্ধতা।

তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলো এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব প্রায় ১০৫ কিলোমিটার। এতটা দূরে অবস্থান করলেও আকাশ পরিষ্কার থাকলে বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গটি বেশ স্পষ্ট দেখা যায়। দিগন্তের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা শুভ্র পাহাড় তখন মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে সব সময় কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না; কখনো দূরে থেকেও মুগ্ধতার গভীরতা ছুঁয়ে যাওয়া যায়।

প্রতিবছর শরতের শেষভাগ ও হেমন্তের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়ায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ মেলে। এবারও তুলনামূলক আগেভাগে দেখা মিলেছে পর্বতশৃঙ্গটির। ফলে প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তেঁতুলিয়ায় আসতে শুরু করেছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

পর্যটকদের কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ পেশাদার ক্যামেরায় ধরে রাখছেন পাহাড়ের রঙের পরিবর্তন। আবার কেউ কোনো ক্যামেরার ফ্রেমে না বেঁধে নীরবে উপভোগ করছেন দিগন্তজোড়া দৃশ্য। দলবেঁধে ছবি তোলা, প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো আর পাহাড়ের দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকা—সব মিলিয়ে তেঁতুলিয়ায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

পর্যটক আফজাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মাটি থেকে প্রতিবেশী দেশ নেপালে অবস্থিত কাঞ্চনজঙ্ঘার এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা সত্যিই অন্য রকম অনুভূতি। প্রকৃতির এত সুন্দর রূপ সামনে থেকে দেখে তিনি মুগ্ধ।

কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ এর রঙের পরিবর্তন। ভোরের আলোয় পাহাড়ের চূড়া থাকে শুভ্র। সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে ফুটে ওঠে সোনালি ও কমলা আভা। আবার আলো-ছায়ার খেলায় কখনো তা ধারণ করে গাঢ় ধূসর রূপ। প্রকৃতির এই রঙের খেলা দেখতে অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে তাকিয়ে থাকেন দিগন্তের দিকে। মুহূর্তের ব্যবধানে বদলে যাওয়া দৃশ্য যেন প্রতিবারই নতুন করে মুগ্ধ করে।

পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। তেঁতুলিয়ায় দায়িত্ব পালনরত ট্যুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক আব্দুর আজিজ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, পর্যটকদের ভ্রমণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে আবাসনসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য আকাশ পরিষ্কার থাকা জরুরি। তাই ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার অবস্থা জেনে নেওয়া ভালো। কারণ, কখনো মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই পর্বতশৃঙ্গ আবার হঠাৎই ধরা দেয় সোনালি আলোয়—আর সেই ক্ষণিকের দেখা হয়ে ওঠে দীর্ঘদিনের স্মৃতি।

২০০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০