রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট জ্বালানির ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার মোংলায় এক জনসমাবেশে এসব তথ্য তুলে ধরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
সরকার পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজসহ সরকারি বিভিন্ন ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় বাগেরহাটের মোংলার নারিকেলতলা মাঠে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের দাবিতে আয়োজিত জনসমাবেশে এসব কথা বলা হয়। ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ স্লোগানে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধরার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল। তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে সারা দেশে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। রামপালে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি সুন্দরবন সংরক্ষণে সরকারের সামগ্রিক ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শরীফ জামিল আরও বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্প বাতিল করা উচিত। একই সঙ্গে সুন্দরবন সংরক্ষণে বিজ্ঞানভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি এবং কৃষক নেতা বদরুল আলম।
এ ছাড়া সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র, সচেতন ফাউন্ডেশনের মো. হাবিবুর রহমান, মিশনগ্রিন বাংলাদেশের আহসান রনি, হাওর অঞ্চলবাসীর জাকিয়া শিশির, কসমস সংস্থার মেহনাজ মালা, ব্রাইটার্সের সাইদুর রহমান সিয়াম, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের মাসফিকুল হাসান টনি, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ারের জুবায়ের ইসলাম এবং ওয়েব ফাউন্ডেশনের আসাদুজ্জামান তুহিন বক্তব্য দেন।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরার সমন্বয়কারী ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ। তিনি বলেন, সুন্দরবনের পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা থেকে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করেছিলেন পরিবেশবাদী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অনেকে। ভবিষ্যতে সুন্দরবনসহ দেশের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হতে পারে, এমন প্রকল্প গ্রহণ না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নূর আলম শেখ আরও বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তর হতে হবে পরিবেশবান্ধব, ন্যায়সংগত, জনকেন্দ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।
সমাবেশ শেষে বাঘের মহড়া, পুতুলখেলা, বাউল গান ও গাজীর গানের আয়োজন করা হয়। এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে