সর্বশেষ

সারাদেশ

মোংলায় ২২ পারার হাফেজ আবদুর রহমানের ক্যানসার, সন্তানকে বাঁচাতে বাবার আকুতি

রেজা মাসুদ, মংলা
রেজা মাসুদ, মংলা

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বাগেরহাটের মোংলায় ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ২২ পারার হাফেজ ১৩ বছরের কিশোর মো. আবদুর রহমান শেখ। অর্থাভাবে থমকে গেছে তার বিশিষ্ট আলেম হওয়ার স্বপ্ন। ক্যানসার আক্রান্ত হাফেজ আবদুর রহমানের চিকিৎসার বিপুল খরচ জোগাতে দিশেহারা দিনমজুর বাবা বিত্তবানদের কাছে মানবিক সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন।

বাগেরহাটের মোংলায় ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ১৩ বছরের কিশোর মোঃ আবদুর রহমান শেখ। মোংলার আলহাজ্ব কোরবান আলী আলিম মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের মেধাবী এই শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারার মধ্যে ২২ পারা হিফজ করেছে। কোরআন প্রতিযোগিতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়নসহ বিভিন্ন ইসলামিক অনুষ্ঠানে পেয়েছে পুরস্কার। স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে একজন বিশিষ্ট আলেম ও পূর্ণাঙ্গ হাফেজ হওয়ার। কিন্তু মরণব্যাধি ক্যানসার আর পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা তার সেই স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসকেরা আরও ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু দিন এনে দিন খাওয়া বাবা মোঃ মজনুয়ার শেখের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

আবদুর রহমানের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মালগাজী গ্রামে। যে বয়সে তার হাতে থাকার কথা কোরআন শরিফ, চোখে থাকার কথা ভবিষ্যতের নানা স্বপ্ন, সেই বয়সেই তাকে লড়তে হচ্ছে কঠিন এক রোগের সঙ্গে। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার বাবা। এখন সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতার আশায় দিন গুনছে পরিবারটি।

মাদ্রাসার শিক্ষক ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে সাইকেল চালাতে গিয়ে পায়ে সামান্য আঘাত পায় আবদুর রহমান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করানো হলে জানানো হয়, তার পায়ের হাড় সামান্য ফেটে গেছে। এরপর পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেওয়া হয়।

আবদুর রহমানের পায়ে আগে থেকেই একটি ছোট টিউমার ছিল। সেটিরও চিকিৎসা চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, ভুল ব্যান্ডেজ ও অসাবধানতামূলক চিকিৎসার কারণে টিউমারটি ফেটে গিয়ে সংক্রমণ তৈরি হয়। পরে তাকে খুলনা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, জটিল সংক্রমণের মধ্যে তার পায়ে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে।

এরপর শুরু হয় কিশোরটির চিকিৎসা। তবে অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত তাকে মাত্র দুটি কেমোথেরাপি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আবদুর রহমানকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে আরও প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম দিনমজুর বাবার পক্ষে এই বিপুল অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না।

আবদুর রহমানের স্বপ্ন ছিল পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করে একজন পূর্ণাঙ্গ হাফেজ ও বিশিষ্ট আলেম হওয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে অনেকটা এগিয়েও গিয়েছিল সে। ইতিমধ্যে ২২ পারা কোরআন হিফজ করেছে। বিভিন্ন কোরআন প্রতিযোগিতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবও অর্জন করেছে। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থতা, চিকিৎসার ব্যয় ও অর্থসংকট তার স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন অসহায় বাবা মোঃ মজনুয়ার শেখ। একদিকে সন্তানের জীবন বাঁচানোর আকুতি, অন্যদিকে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়—সব মিলিয়ে চরম অসহায় সময় পার করছে পরিবারটি।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মোঃ মজনুয়ার শেখ বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দরিদ্র ও অশিক্ষিত দিনমজুর মানুষ। দিন এনে দিন খাই। সংসার চালানোই যেখানে কষ্টকর, সেখানে ছেলের এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। আমি দেশ ও সমাজের বিত্তবান এবং মানবিক মানুষদের কাছে বিনীত আকুতি জানাচ্ছি, আপনারা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। যাতে আমার ২২ পারা হাফেজ ছেলেটা সুস্থ হয়ে আবার কোরআনের আলো ছড়াতে পারে।’

যে কিশোরের কণ্ঠে পবিত্র কোরআনের বাণী ছড়িয়ে পড়ার কথা, সেই আবদুর রহমান এখন সুস্থ হয়ে ওঠার আশায় দিন কাটাচ্ছে। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে পারলে আবারও হিফজ সম্পন্ন করার পথে এগিয়ে যেতে পারবে—এমন আশাই করছেন তার স্বজনেরা। সন্তানের জীবন বাঁচাতে সমাজের সহৃদয় ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার অসহায় বাবা।

ছেলের প্রাণ বাঁচাতে অসহায় বাবা মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সমাজের বিত্তবান মানুষদের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা ও মাধ্যম: মোঃ মজনুয়ার শেখ (হাফেজ আবদুর রহমানের বাবা) ঠিকানা: গ্রাম: মালগাজী, ওয়ার্ড নং-০৪, উপজেলা: মোংলা, জেলা: বাগেরহাট।

যোগাযোগ : ০১৯২৫-৪৩৪৯০৫ ।

১৬২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০