ফরিদপুরে গৃহবধূকে বেঁধে নির্যাতন, চুল কাটার ভিডিও ভাইরাল
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৫৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সদরপুরে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূকে আটকে রেখে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূকে আটকে রেখে নির্যাতন এবং তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামের। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর নাম রিক্তা বেগম (২৮)। তিনি ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী রাজিব বেপারীর স্ত্রী।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিক্তা বেগমকে একটি চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কালো টি-শার্ট পরা এক যুবক তাঁর দুই হাত চেপে ধরে আছেন। এ সময় চেক টি-শার্ট পরা আরেক যুবক ধারালো কাঁচি দিয়ে তাঁর মাথার চুল এলোমেলোভাবে কেটে দিচ্ছেন। গৃহবধূ চিৎকার করে ও আকুতি-মিনতি জানিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলেও তাঁকে চুল কাটার হাত থেকে রেহাই দেওয়া হয়নি। ভিডিওর শেষ দিকে তাঁর মুখে থাপ্পড় মারতেও দেখা যায়।
১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে গৃহবধূ ও এক যুবককে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ওই সময় গৃহবধূকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন রিক্তা বেগম। ওই রাতেই তাঁর কক্ষে এক যুবককে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দুজনকে আটক করেন। এ সময় ওই যুবক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে ধরে ফেলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিন রবিবার বিকেলে গৃহবধূর চুল কেটে তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে আটক যুবককেও ছেড়ে দেওয়া হয়। রিক্তা বেগমের বাবার বাড়ি পাশের ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীরহাট গ্রামে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. জলিল মোল্যা নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ বেপারীর নাতি সুমন হোসেন (২৬) ও জয় হোসেনের (২৮) বিরুদ্ধে।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে।
ওসি বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। কেউ অপরাধ করলে তার বিচারের জন্য প্রচলিত আইন রয়েছে। ভিডিও ধারণকারী ও নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
১০৭ বার পড়া হয়েছে