সর্বশেষ

সারাদেশ

সিলেটে দা দিয়ে কুপিয়ে কৃষকের কবজি বিচ্ছিন্ন

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২:০০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে দা দিয়ে কুপিয়ে হারিছ আলী (৫৫) নামের এক কৃষকের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁকে লাঠি দিয়েও পেটানো হয়। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় দা দিয়ে কুপিয়ে এক কৃষকের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার কামারগ্রাম এলাকার একটি বাঁশঝাড়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে। তোয়াকুল বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন হারিছ আলী (৫৫)। তিনি উপজেলার ফুলতৈছগ্রামের বাসিন্দা। কৃষিকাজ করে সংসার চালান তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হারিছ আলী জানান, রোববার রাতে তোয়াকুল বাজারে একটি সালিস ছিল। সালিস শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বাজার থেকে তাঁর বাড়ির দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার। তাঁর পেছনে একই এলাকার আরও একজন পথচারী ছিলেন। পথে কামারগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তাঁর সামনে এসে থামে।

হারিছ আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, অটোরিকশা থেকে দা ও লাঠি হাতে পাঁচজন নেমে তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘গুন্ডারে বহুত দিনে পাইছি।’ এরপর তাঁদের একজন দা দিয়ে তাঁকে কোপ দেন। কোপ ঠেকাতে ডান হাত দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তাঁর কবজির ওপরের অংশ কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে হামলাকারীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। এ সময় তাঁর পেছনে থাকা পথচারী ভয়ে পালিয়ে যান।

হারিছ আলী জানান, তাঁর চিৎকার শুনে এবং হামলাকারীদের কথাবার্তা টের পেয়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। তখন হামলাকারীরা অটোরিকশায় করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশের একটি খাদ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

হারিছ আলীর দাবি, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের তিনি চিনতে পেরেছেন। তাঁরা একই গ্রামের এমরান, মোহাম্মদ, বুরহান, নজরুল ও অটোরিকশাচালক ইমাম। এমরান, মোহাম্মদ ও বুরহান পরস্পর ভাই। তাঁর অভিযোগ, এমরানই তাঁকে দা দিয়ে কুপিয়েছেন।

হারিছ আলী বলেন, প্রথম কোপেই তাঁর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর তিনি কাটা হাতটি খুঁজতে চেয়েছিলেন, কিন্তু হাতের দিকে তাকানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না। তাঁর হাত থেকে প্রচুর রক্ত ঝরছিল। পরে উদ্ধারকারীদের একজন নিজের পাঞ্জাবি দিয়ে তাঁর হাতে বেঁধে দেন। স্থানীয় লোকজনকেও কাটা হাতটি খুঁজে হাসপাতালে নিয়ে আসার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। তবে হাতটি আর পাওয়া যায়নি।

হামলার কারণ সম্পর্কে হারিছ আলী জানান, অভিযুক্ত নজরুলের সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই বিরোধ ছিল। গত চৈত্র মাসে, অর্থাৎ মার্চের দিকে, তাঁর একটি গরু চুরি হয়। পরে খোঁজাখুঁজি করে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে গরুটি উদ্ধার করেন তিনি। যে স্থান থেকে গরুটি উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখান থেকে তিনি জানতে পারেন, নজরুল গরুটি চুরি করে অন্য জায়গায় রেখেছিলেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হলেও নজরুল বিরোধ জিইয়ে রেখেছিলেন বলে দাবি করেন হারিছ আলী।

হাসপাতালে হারিছ আলীকে দেখতে আসেন তাঁর ভাগনে আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, তাঁর মামা কৃষিকাজ করে সংসার চালান। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ডান হাত হারিয়ে হারিছ আলী কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। এখন কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্ত মোহাম্মদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রথমবার তিনি সাড়া দেননি। পরে আবার ফোন করলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত নজরুলের বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে ঘটনাটি জানার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

১০৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০