সর্বশেষ

সারাদেশ

সৌদিতে হামলায় নিহত বগুড়ার শাহেদ

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:৪১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
এক মাসের ছুটি কাটিয়ে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে বিদায় জানিয়ে সৌদি আরবে ফিরেছিলেন বগুড়ার শাহেদ আহমেদ আশিক। পরিবারের সচ্ছলতার আশায় প্রায় দুই বছর আগে বাবার কাছে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কর্মস্থলে ফেরার পরদিনই রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণ হারান শাহেদ। তাঁর মৃত্যুর খবরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পশ্চিমপাড়ার বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী, আর বাবার ফেরার অপেক্ষায় থাকা ১১ ও ৬ বছর বয়সী দুই শিশুসন্তান। এখন স্বজনদের অপেক্ষা, কখন দেশে ফিরবে শাহেদের মরদেহ।

সৌদি আরবে কাজ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল শাহেদ আহমেদ আশিকের। সেই স্বপ্ন নিয়েই প্রায় দুই বছর আগে সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে আগে থেকেই প্রবাসী হিসেবে কাজ করছিলেন তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম। বাবার কাছে গিয়ে জীবিকার সন্ধানে কাজ শুরু করেন শাহেদ।

সম্প্রতি এক মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। স্ত্রী, দুই ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে গত ৯ অক্টোবর বাড়ি থেকে বিদায় নেন শাহেদ। পরদিন ১০ অক্টোবর সকাল ৯টায় সৌদি আরবের উদ্দেশে বিমানে ওঠেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের কাছে সেটি ছিল কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার স্বাভাবিক যাত্রা। কিন্তু সেই যাত্রাই যে তাঁর শেষ যাত্রা হয়ে উঠবে, তা কেউ ভাবেননি।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হামলার ঘটনায় শাহেদের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে শোকের মাতম শুরু হয় তাঁর গ্রামের বাড়িতে। কয়েক দিন আগেও যাঁর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেছেন স্বজনেরা, তাঁর মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা।

শাহেদের সংসারে রয়েছে স্ত্রী ও দুই ছেলে। তাদের বয়স যথাক্রমে ১১ ও ৬ বছর। বাবার স্নেহ-ভালোবাসায় বেড়ে ওঠার সময়েই তারা হারাল বাবাকে। যে মানুষটি পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালনে বিদেশে গিয়েছিলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে পরিবারটি।

স্বামীকে হারিয়ে শোকে দিশেহারা শাহেদের স্ত্রী। কয়েক দিন আগেই স্বামীকে বিদায় জানিয়েছিলেন তিনি। তখন হয়তো ভেবেছিলেন, কাজ শেষে আবারও পরিবারের কাছে ফিরে আসবেন শাহেদ। কিন্তু সেই প্রত্যাশা আর পূরণ হলো না।

শাহেদের মৃত্যুসংবাদে ভেঙে পড়েছেন তাঁর স্বজনেরাও। পরিবারের সদস্যদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় কষ্ট, প্রিয় মানুষটিকে আর আগের মতো কাছে পাওয়া যাবে না। যে বাড়িতে কিছুদিন আগেও তাঁর উপস্থিতিতে আনন্দ ছিল, সেখানে এখন শোক আর অপেক্ষা।

শাহেদের পরিবারের শোক আরও গভীর হয়েছে তাঁর মা-বাবার অবস্থানের কারণে। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম প্রায় ২৭ বছর ধরে সৌদি আরবে কাজ করছেন। আর তাঁর মা প্রায় তিন মাস আগে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গেছেন।

বিদেশের মাটিতে সন্তানের এমন মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের ওপর নেমে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি। দেশে থাকা স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন শাহেদের মরদেহ ফিরে আসার। শেষবারের মতো তাঁকে দেখা এবং নিজ এলাকার মাটিতে দাফন করার আকুতি এখন পরিবারের সদস্যদের।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হন। তাঁদের একজন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার শাহেদ আহমেদ আশিক। নিহত অপর বাংলাদেশি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ওমরাযাত্রী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি।

এ ঘটনায় আরও চার বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাঁরা রিয়াদের কিং খালেদ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শাহেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান জানিয়েছেন, সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি নিজেও এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। পরিবারের প্রয়োজন হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

প্রবাসে উপার্জনের মাধ্যমে স্ত্রী-সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শাহেদ। তাঁর মৃত্যুতে সেই পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয় মানুষটিকে। এখন স্বজনদের অপেক্ষা, কখন দেশে ফিরবে শাহেদের মরদেহ এবং শেষবারের মতো তাঁকে বিদায় জানানোর সুযোগ মিলবে।

১২৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০