দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা, সিসিটিভির নজরদারি
শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ৪:৫৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শব্দ ধারণের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিক্ষোভের কারণে মেট্রো স্টেশন, ট্রেন চলাচল ও মোবাইল ইন্টারনেট সেবায়ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে, অনুমতি না পেলেও বিক্ষোভ আয়োজনের পরিকল্পনায় অনড় রয়েছেন আয়োজকেরা।
এ পরিস্থিতিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়াতে ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরায় শব্দ ধারণের সুবিধাও রয়েছে।
পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিল্লিতে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এসব স্থাপনার চারপাশের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের সড়কগুলোতে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন ঘটনা নথিবদ্ধ করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের শরীরে লাগানোর জন্য ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল ও পুলিশের কার্যক্রম ভিডিও করতে শতাধিক আলোকচিত্রী ও ভিডিও ধারণকারী কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।
বিক্ষোভের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এসব ভিডিও তদন্তের কাজে সহায়তা করবে বলে আশা করছে পুলিশ। এর আগে ২০ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ওই সময় পুলিশের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার বিক্ষোভের পুরো পরিস্থিতি ভিডিওতে ধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির গণপরিবহনেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ১০ অক্টোবর সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী ২৫৪টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ট্রেনের মধ্যে ৭৫টি মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন এবং ১৭৯টি লোকাল ট্রেন রয়েছে।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে জনপথ ও কর্তব্য পথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার কথা।
এদিকে, বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করতে রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল, লজ ও অতিথিশালায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভের আয়োজক সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, নানা বিধিনিষেধ সত্ত্বেও তাঁরা যন্তর মন্তরে কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিক্ষোভের কারণে জনদুর্ভোগের আশঙ্কায় যখন মেট্রো, ট্রেন ও সড়কে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, তখন এসব পদক্ষেপের কারণেও মানুষের ভোগান্তি বাড়বে কি না।
এর আগে ২০ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আগের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এবার বিক্ষোভের প্রতিটি পর্যায় নথিবদ্ধ করতে নজরদারি বাড়িয়েছে দিল্লি পুলিশ।
১২১ বার পড়া হয়েছে