আজ মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, হতাশ উপকূলের জেলেরা
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতে আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী ২২ দিনের ইলিশ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর কলাপাড়াসহ উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা গভীর সাগর থেকে তীরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে এবং ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।
মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে প্রতি বছরের মতো এবারও ২২ দিনের জন্য সাগর ও নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ও আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ফিরেছেন হাজারো জেলে। তবে নদী ও সাগরে আশানুরূপ ইলিশের দেখা না মেলায় চরম হতাশায় ভুগছেন তারা।
স্থানীয় জেলেরা জানান, এখনো অনেক ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। এর মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় তারা অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন। সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞাকালীন সরকারি প্রণোদনা হিসেবে যে চাল দেওয়া হয়, তা যেন সময়মতো এবং প্রকৃত জেলেদের মাঝে বণ্টন করা হয়। অনেক জেলেই এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ট্রলার ভাসিয়েছিলেন, এখন সেই দেনা কীভাবে শোধ করবেন তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
মৎস্য আড়তদার ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা জানান, গত কয়েক বছর ধরে সাগরে মাছের সংকট চলছে। এর ওপর যখনই কিছুটা মাছের দেখা মেলে, তখনই বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়তে হয়। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে ভারতীয় ও মিয়ানমারের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। তাই এ সময়ে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুদ কিংবা বাজারজাত করলে তাকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। সরকারি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বঙ্গোপসাগরে নৌ-টহল জোরদার করা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
১৬১ বার পড়া হয়েছে