পেটে গজ রেখে সেলাই: ৫ মাস লড়ে মারা গেলেন গৃহবধূ বীথি
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১:০০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে পেটে গজ রেখে সেলাই করার ঘটনায় দীর্ঘ পাঁচ মাস যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন গৃহবধূ বীথি আক্তার (২৩)। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের চরম অবহেলার শিকার এই তরুণীর এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত বীথি আক্তার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের জামতলার হাট জ্যেতিনবর্দিপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ফরিদপুরের একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বীথির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারটি করেছিলেন ডা. তামান্না আক্তার ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দু। অস্ত্রোপচারের পর একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান। তবে বাড়ি ফেরার পর থেকেই পেটে তীব্র ব্যথা ও শারীরিক নানা জটিলতা শুরু হয় তাঁর।
পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর জানা যায়, তাঁর পেটে অস্ত্রোপচারের সময় ব্যবহূত গজ কাপড় (মব) রেখে সেলাই করা হয়েছিল। পরে গত ১৫ জুলাই দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে তাঁর পেট থেকে সেই গজ কাপড় বের করা হলেও ততক্ষণে নাড়িতে পচন ও মারাত্মক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
শারীরিক অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে গত ৪ অক্টোবর বীথিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চার দিন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অবশেষে আজ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই নবজাতকের মা।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানস কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ইতিমধ্যে একটি ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১০৯ বার পড়া হয়েছে