বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট
বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বৈদ্যুতিক লাইনে শর্টসার্কিট থেকে আগুন ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার ভোরে প্রথম ইউনিট এবং বিকেলে তৃতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে প্রায় ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে পার্বতীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি চালু ছিল। এর মধ্যে মঙ্গলবার ভোরে প্রথম ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর বিকেলে বন্ধ হয়ে যায় তৃতীয় ইউনিটও। ফলে কেন্দ্রটির সব ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রায় ১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছিল। দুই ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে মোট প্রায় ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে।
কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, মঙ্গলবার ভোর ৬টা ২০ মিনিটের দিকে বৈদ্যুতিক লাইনে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এর পরপরই প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে এর প্রভাব পড়ে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিটে। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে তৃতীয় ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ইউনিট দুটির মেরামতের কাজ শেষ হলে আবার উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব হবে।
কেন্দ্র সূত্রে আরও জানা যায়, তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। মেরামতের পর প্রায় দুই মাস আগে এটি আবার চালু করা হয়। অন্যদিকে প্রথম ইউনিটটি নিয়মিতভাবে সচল ছিল।
২০০৬ সালে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট চালুর মাধ্যমে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। পরে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও একটি ইউনিট যুক্ত করা হয়। তবে চালুর পর থেকে বিভিন্ন কারণে কেন্দ্রটি কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় নিয়মিত উৎপাদন করতে পারেনি।
১০৭ বার পড়া হয়েছে