নাটোরে ৩ নারীকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:২৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নাটোরের গুরুদাসপুরে 'কালো জাদু' বা কুফরি কালাম করার অপবাদে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে সড়কে ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের মারধর করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর রাতেই নির্যাতনের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গুরুদাসপুর পৌর এলাকার গাড়িষাপাড়া গ্রামে সোমবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন—উপজেলা যুবদলের সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া ও তার ভাই ইয়ারুল ইসলাম। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দেড় মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই মধ্যবয়সী নারী ও এক তরুণীকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রামের সড়ক দিয়ে হাঁটিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ সময় একদল লোক তাদের পেছনে হইচই করতে করতে হাঁটছেন। অন্য আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, যুবদল নেতা জিয়ার বাড়ির একটি কক্ষে ওই নারীদের আটকে রাখা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, যুবদল নেতা জিয়ার ভাতিজির শারীরিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে এক কবিরাজ বা তান্ত্রিকের শরণাপন্ন হন তারা। তান্ত্রিকের দাবি অনুযায়ী, ওই তিন নারী কুফরি কালাম বা কালো জাদুর মাধ্যমে মেয়েটিকে রোগাক্রান্ত করেছেন। এই কাল্পনিক অপবাদকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে নারীদের বাড়ি থেকে তুলে এনে নির্যাতন ও জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো হয়।
নির্যাতনের শিকার নারীরা জানান, কালো জাদুর মিথ্যা অভিযোগ তুলে ইয়ারুল ও তার সহযোগীরা তাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে আনেন। মারধরের পর তাদের জুতার মালা পরিয়ে রাস্তা দিয়ে ঘোরানো হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তারা এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে অভিযুক্ত ইয়ারুল ইসলাম জুতার মালা পরানোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তার দাবি, ওই তিন নারী তার মেয়েকে ক্ষতি করার জন্য অন্য কবিরাজের মাধ্যমে কুফরি করিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন বলে জানান। অন্যদিকে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হান্নান জানান, তিন নারীকে অপদস্ত বা জুতার মালা পরানোর বিষয়ে এখনো থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে